মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং দেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আকাশপথে ভ্রমণ ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান ভাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিমান পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে টিকিটের মূল্য এখন অনেক যাত্রীর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানো হয়। এরপর ৭ এপ্রিল আবারো দাম বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার ২৭৭ টাকার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে প্রতি ডলারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এয়ারলাইন্সগুলোর দাবি, তাদের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই জেট ফুয়েলের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তা সরাসরি টিকিটের ওপর চাপ পড়ে। অন্যথায় ফ্লাইট চালানো সম্ভব হয় না।
অভ্যন্তরীণ রুটে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন রুটে ভাড়া গড়ে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আন্তর্জাতিক রুটেও টিকিটের দাম কয়েক হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি খরচের কারণে আগে যেখানে ফুয়েল চার্জ কম ছিল, তা এখন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানির দামকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে টিকিটের মূল্য অতিরিক্ত বাড়ানো হচ্ছে। এতে আকাশপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত সহায়তা ছাড়া দেশের অ্যাভিয়েশন খাত সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলোকেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজার ও ডলারের দামের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়েই জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
সানা/আপ্র/১১/৪/২০২৬