গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

আরেকটি পদ্মা সেতুসহ আসছে ৩ মেগা প্রজেক্ট

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৭ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০২:৩৭ এএম ২০২৬
আরেকটি পদ্মা সেতুসহ আসছে ৩ মেগা প্রজেক্ট
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিএনপির নির্বাচনি ইশতিহারের অংশ হিসেবে দেশের যোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে তৈরি হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যানজট চিরতরে দূর করতে তৈরি হবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং দেশের অর্থনীতির চাকা আরো সচল করতে নির্মিত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে।

গত ১ মার্চ সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে এই তিনটি মেগা প্রজেক্টের এই তথ্য পাওয়া গেছে।  

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং পরবর্তী দুটি অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রক্ষেপণ নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোর সময়সীমা ও রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সংযোগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত বহুমুখী সেতুটি পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করবে এবং জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।

সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও দর্শনা এবং সমুদ্রবন্দর মোংলার সঙ্গে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। বর্তমানে এই সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই বা 'প্রাইমারি স্টাডি'র কাজ নতুন করে শুরু হয়েছে।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং এই সেতু নির্মাণ বিষয়ে এই সেতু নির্মাণ বিষয়ে প্রাইমারি স্টাডি (সমীক্ষা) শুরু হয়েছে। যদিও আগের একটি স্টাডি রয়েছে, তবুও এখন নতুন করে স্টাডি করতে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ সেতু নির্মাণে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ ও আরিচা-নগরবাড়ি নির্ধারিত থাকলেও—স্টাডি সম্পন্ন হওয়ার পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। স্টাডি করার পর বোঝা যাবে, কোথায় করলে সেতুটি লাভজনক হবে।

অন্যদিকে, বর্তমানে যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু মূল যমুনা সেতুটি চার লেনের হওয়ায় সংযোগ সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহনগুলো সেতুর মুখে এসে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে। এই সংকট কাটাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করতে চায় সেতু বিভাগ। বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য রুটের ওপর সমীক্ষা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া থেকে জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত রুট। সেতুটির চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের পর এর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করা হবে।

এবিষয়ে সচিব বলেন, যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত হওয়ায়, সড়কে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচলের পর সেতুর সংকীর্ণতার কারণে, হঠাৎ করেই সেতুর কাছে যেয়ে স্লো হয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ কোথায় করা যায়, দৈর্ঘ্য কেমন হবে এবং কত টাকা ব্যয় হবে, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।"

এদিকে, দেশের অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে এবং এই চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের চাহিদার কথা চিন্তা করে দ্রুত পণ্য ও আমদানি-রপ্তানি মালামাল পরিবহনে এক্সপ্রেসওয়ে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করলেও, সেতু বিভাগ সেখানে দ্রুতগতির নির্বিঘ্ন যান চলাচলের জন্য একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

কর্মকর্তারা জানান, আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনে গতি আনতে এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে এটিকে 'আউটার রিং সার্কুলার'-এর মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যানও সরকারের রয়েছে।

বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতায় চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভবিষ্যতের এই নতুন মেগা প্রজেক্টগুলোর জন্যই সিংহভাগ অর্থাৎ ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসি/আপ্র/২৯/০৩/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন, প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস আইএমএফের
১৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনৈতিক নীতিতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন, প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস আইএমএফের

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচ...

দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম
১৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম

বিশ্ববাজারে সোনার দামের পতনের পর দেশেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।...

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস
১৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরো হতাশার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থা...

জ্বালানিসংকটের বাড়তি ব্যয় সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় সরকার
১২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানিসংকটের বাড়তি ব্যয় সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় সরকার

বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 4 ঘন্টা আগে