টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে গত সাত দিনে অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা। পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কাকারা ইউনিয়নে পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিমের মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে প্রাণ হারায় তিন বছরের শিশু পুষ্প। ভোরে চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে একটি পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরো ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, বান্দরবান থেকে নেমে আসা ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও পানি দ্রুত নামাতে প্রশাসন কাজ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২। এর মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন। দুর্গতদের জন্য ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রাখা হয়েছে।
এসি/আপ্র/১১/০৭/২০২৬