মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিপ্লব সিংহ রায়-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও সরকারি অফিসে বসে সিগারেট সেবনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৫০ টন চাল আত্মসাৎ, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করা এবং ঘুষের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অফিসে সরকারি চেয়ারে বসে সিগারেট খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বদরগঞ্জে যোগদানের পর থেকে তিনি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করেননি। বরং কেজিপ্রতি এক টাকা কমিশনের চুক্তিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একাধিক ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগ দেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ডিলার।
ডিলার শ্যামল লোহানী ও রেজাউল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তরে কোনো কাজ হয় না। চাল উত্তোলনের আগেই বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ঘুষ আদায় করা হয়। প্রতিবাদ করলে ডিলারশিপ বাতিলের ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি তাদের।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর খায়রুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা গভীর জলের মাছ। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেও তিনি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করেন। ৫০ টন চাল আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে বহাল রয়েছেন। আমি তার অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় নিজেও বিপাকে পড়েছি।”
এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে খাদ্য কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি কমল লোহানী। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অফিসে বসে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষকদের সামনেই সিগারেট সেবন করেন এবং ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বিপ্লব সিংহ রায়। তিনি বলেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে কখনও অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। দুই দিন আগে পৌর বিএনপির সভাপতি কমল লোহানী লোকজন নিয়ে তার কার্যালয়ে গেলে ধান সংগ্রহের বিষয়ে কথা বলায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও অফিসে সিগারেট সেবনের বিষয়টি তিনিও বিভিন্নভাবে শুনেছেন। বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলে জানান তিনি।
সানা/আপ্র/২৩/৫/২০২৬