এস এ খান শিল্টু, মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধার হওয়া ৮২টি হারানো মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া নগদ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের হাতে মোবাইল ফোন ও উদ্ধারকৃত অর্থ তুলে দেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
জেলা পুলিশ জানায়, এপ্রিল মাসজুড়ে পরিচালিত অভিযানে জেলার তিন থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত ৮২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভুলক্রমে অন্য নম্বরে চলে যাওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি প্রতারণা মামলায় মোট ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এ সময় ১৮টি ফেসবুক আইডি ও ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পুনরুদ্ধার করে। একই সঙ্গে নিখোঁজ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে থানা পুলিশকে সহায়তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারেও সেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন ও সাইবার স্পেসের বাইরে কেউ নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গোপন সংকেত বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পুরোনো মোবাইল কেনার সময় বক্স ও ক্রয় রসিদ সংগ্রহের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ গঠনে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
থানাভিত্তিক উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে মেহেরপুর সদর থানায় ৩৭টি, গাংনী থানায় ২৯টি এবং মুজিবনগর থানায় ১৬টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আতিকুল হক, মো. জামিনুর রহমান খান, মো. মেহেদি হাসান দিপুসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৭/৫/২০২৬