মেহেরপুর শহরের শেখপাড়ায় রিকশাচালক গোলাম হোসেনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক ও পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৬ মে) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি কালুকে আটক করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গাংনী এলাকা থেকে তার কথিত প্রেমিকা বন্যাকে ঢাকা পালানোর পথে আটক করা হয়।
গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখপাড়ার বাসিন্দা ও রিকশাচালক গোলাম হোসেন (৪৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গোসল করার সময় হঠাৎ হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, খালাতো ভাই কালু ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কালু ও বন্যাকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কালু ও বন্যার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ছিল। এর আগেও ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত গোলাম হোসেনকে মারধর করা হয়েছিল, যা পরে মীমাংসা হয়। তবে সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ডা. জামিনুর রহমান খান জানান, ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/৬/৫/২০২৬