এস এ খান শিল্টু, মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামে বোনদের প্রাপ্য সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগে তিন ভাই কারাগারে গেছেন। একই ঘটনায় আরেক ভাই বিদেশে পলাতক রয়েছেন।
গতকাল সোমবার (৪ মে) গাংনী আমলী আদালতে হাজির হয়ে আসামি দুই ভাই জামিন আবেদন করলে বিচারক নাসিম উদ্দিন ফারাজি তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে রোববার (৩ মে) রাতে অপর এক ভাইকে পুলিশ আটক করে।
কারাগারে যাওয়া তিন ভাই হলেন—গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মৃত সামুসজ্জোহা বিশ্বাসের ছেলে সামসুল ইসলাম খোকন, ইমদাদুল হক ও হেলাল। মামলার বাদী তাদের বোন আখতার বানু। মামলাটি ২০২৪ সালের ১১৩৫ নম্বরে দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মৃত মজিরা খাতুনের মৃত্যুর পর তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে ওয়ারিশ হন। জীবিত অবস্থায় ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল ২৭৭৫ নম্বর হেবা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি মায়ের নামে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ মে মায়ের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অংশীদার হন তিন বোন ও চার ভাই।
অভিযোগ রয়েছে, তিন বোনের প্রাপ্য অংশ গোপন রেখে চার ভাই প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে ভুয়া চারটি দলিল তৈরি করে সম্পূর্ণ জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় এবং নামজারি সম্পন্ন করে। এতে বোনদের প্রাপ্য ১২ শতক জমি জবরদখল করা হয়। বিষয়টি জানার পর বাদী পক্ষ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের কপি তুলে আপত্তি জানালেও আসামিরা তা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায়ে অস্বীকার করে।
আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া পিবিআই প্রতিবেদনে জানায়, ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী মায়ের ৬৬ শতক জমির মধ্যে চার ভাই প্রত্যেকে ১২ শতক করে এবং তিন বোন প্রত্যেকে ৬ শতক করে পাওয়ার কথা। সে হিসেবে তিন বোনের মোট প্রাপ্য ১৮ শতক জমি।
তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পৃথকভাবে মেহেরপুর পৌর ভূমি কর্মকর্তাও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত গত ২৭ এপ্রিল চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ একজনকে আটক করে এবং বাকি দুই ভাই আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরও কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং আসামিপক্ষে রফিকুল ইসলাম, পল্লব ভট্টাচার্য, মারুফ আহমেদ বিজন ও মোখলেসুর রহমান স্বপন আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সানা/আপ্র/৫/৫/২০২৬