চাঁদপুরের ইলিশের নাম ব্যবহার করে অনলাইনে প্রতারণা ও ক্রেতাদের হয়রানি ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রি করতে জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইনে ইলিশ বিক্রিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত বুধবার এ বিষয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য আগ্রহী ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুস্বাদু ইলিশের জন্য চাঁদপুরের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ইলিশের স্বাদ ও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জেলার ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু চাঁদপুরের ইলিশের নাম ব্যবহার করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে দেশজুড়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-ক) আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ জন্য পরিশিষ্ট-খ-তে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘লাইসেন্স নেওয়ার ফলে এখন থেকে ইলিশ নিয়ে আর প্রতারণা করার সুযোগ থাকবে না। আমরা অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিয়েছি।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ পর্যন্ত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১১ জন প্রতারককে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে অনলাইনে ইলিশ বেচাকেনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ক্রেতাদের প্রতারণার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সানা/আপ্র/৮/১১/২০২৬