গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বরের মতো আবারো দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২০ পিএম, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৫ এএম ২০২৬
৭ নভেম্বরের মতো আবারো দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই
ছবি

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে দিনভর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবিটি রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে তোলা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আবারো ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে-বিদেশে আবারো ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একাত্তর, নব্বই ও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতোই এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চায় দেশের মানুষ। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে দিনভর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। পরে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দুপুরে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও অবসরকালীন ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য শেষে দলের ‘সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রায়’ নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান।

নয়াপল্টনে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারো দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন। একই সঙ্গে যে গণতন্ত্রকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ জীবন বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষার দিন হোক।”

দেশের ভেতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আসুন, বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের ভিতরেই হোক, দেশের বাইরেই হোক, সকল ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা এক করে দেব। কোনো ষড়যন্ত্র করে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বাকস্বাধীনতা রক্ষার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতের মতো এখনো একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা আবারো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দাবিয়ে রাখতে এবং ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। কিন্তু যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছে, ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনেনি, স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদেরও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একইভাবে তাদের পরাজয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক রহমান জানতে চান, “আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?” এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। পরে তিনি স্লোগান দেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”

এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি নিজেও শোভাযাত্রায় অংশ নেন। কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জনসমাগম ঘটে। বেলা ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, বিএনপির পতাকা এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টুপি ও গেঞ্জি পরেও অনেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট মোড় অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেষ হয়। মঞ্চে এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী সভাপতির বক্তব্য দেন এবং দিবস উপলক্ষে কবিতা আবৃত্তি করেন। মির্জা আব্বাস বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতা-কর্মীদের চোখ-কান খোলা রাখার পরামর্শ দেন।

আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সকালে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। সে কারণে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বর পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে আবারো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত এবং গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।” ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহী-জনতা একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ যতবার এ দিনের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “৭ নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।”

দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের পরিচয় বাংলাদেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ-সবারই গর্বিত পরিচয় একটাই, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যেভাবে তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আর্মি স্টেডিয়ামে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাঁর মতে, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অভিভাবক ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, তরুণ, ক্যাডেট ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ও অবসরকালীন আনুতোষিক বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাত হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের বেতন আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের অবসরকালীন এককালীন আনুতোষিক ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্য আদান-প্রদানের কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মাসে ১৫০ টাকা দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধমূলক তৎপরতা কিংবা উত্তেজনার আশঙ্কা সবার আগে তাঁদের নজরে আসে। এসব তথ্য দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গেলে অপরাধ প্রতিরোধ সহজ হয়।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে গ্রামীণ জনপদের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

সকালে দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা: দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতেও অংশ নেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও দলটির উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও অন্যান্য আয়োজন করা হয়।
সানা/আপ্র/৭/১১/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

জিয়া দম্পতির সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা
০৭ নভেম্বর ২০২৬

জিয়া দম্পতির সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানম...

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সামিটের এলএনজি সরবরাহ আবারো শুরু
০৭ নভেম্বর ২০২৬

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সামিটের এলএনজি সরবরাহ আবারো শুরু

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ...

গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনেরা
০৭ নভেম্বর ২০২৬

গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনেরা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭...

বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান
০৭ নভেম্বর ২০২৬

বিএনপির শোভাযাত্রা শুরু, নেতৃত্বে তারেক রহমান

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গণহত্যাকারীদের আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে জনগণ আর রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ না করা ব্যক্তিরা বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর এই বক্তব্য সঠিক বলে মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে