কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটিতে আবারো গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণ শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। বর্তমানে মহেশখালীর দুটি টার্মিনাল থেকেই আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
শনিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে দুপুর ১টা থেকে পুনঃগ্যাসীকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এখন দুটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় সহযোগিতার জন্য গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলার শনিবার দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৫৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। বিকাল ৪টায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে ১ হাজার ৬ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়।
এর আগে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে সামিটের এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পেট্রোবাংলার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত টার্মিনালটির মাধ্যমে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ বন্ধ থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শনিবার দুপুর ১টায় কার্যক্রম শুরু হয়।
রক্ষণাবেক্ষণের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পচাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ৪ নভেম্বর সকাল ৮টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৯৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর একই দিন সকাল ১০টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি সরবরাহ ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ মাত্র দুই ঘণ্টায় মোট সরবরাহ কমে যায় ৪৬১ মিলিয়ন ঘনফুট।
রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল পেট্রোবাংলা। তবে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে গুজব বলে উল্লেখ করেছিল সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য ছিল, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি। সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
সানা/আপ্র/৭/১১/২০২৬