গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

ডিজিটাল ডিভাইসে শিশু হারাচ্ছে সামাজিক বিকাশ ও চঞ্চলতা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৮ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩৫ এএম ২০২৬
ডিজিটাল ডিভাইসে শিশু হারাচ্ছে সামাজিক বিকাশ ও চঞ্চলতা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিশুর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস এখন আর কোনো বিরল দৃশ্য নয়। দুই বছরের শিশুটির কান্নাকাটি থামানো কিংবা নিজের একটু কাজের ফুরসত পেতে অনেক অভিভাবকই নির্দ্বিধায় কচি হাতে তুলে দিচ্ছেন ডিজিটাল ডিভাইস। আপাতদৃষ্টিতে শিশুকে যা শান্ত রাখার জাদুকরী কৌশল মনে হচ্ছে, এর নেপথ্যে আছে স্বাস্থ্য ও মানসিক বিপর্যয়।

ডিভাইসের এই রঙিন ও আকর্ষক ভার্চুয়াল জগতের মোহে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের সামাজিক বিকাশ, শৈশবের স্বাভাবিক চঞ্চলতা এবং শারীরিক সুস্থতা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবে অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন-টাইমের প্রভাব সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, রেখে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতির ছাপ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের স্ক্রিন-টাইম ক্ষতিকর। দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যের আলো শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠনে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে ‘স্পিচ ডিলে’ বা দেরিতে কথা বলা, মনোযোগের চরম ঘাটতি এবং অন্যের আবেগ অনুধাবন করতে না পারার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

শারীরিক সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকায় শিশুদের চোখে মায়োপিয়া ও ড্রাই আই সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে। ডিভাইসের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলোটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়- যা স্বাভাবিক ঘুম নষ্ট করে শিশুকে মেজাজী করে তোলে। এ ছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে শৈশবকালীন স্থূলতা ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি।

আচরণগত পরিবর্তন: বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শিশুরা সামাজিকভাবে একা হয়ে পড়ছে। খেলাধুলা বা সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি না হওয়ায় সামান্যতেই চরম রেগে যাওয়া বা হিংস্র আচরণ করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

এড়িয়ে চলার উপায়: প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা অসম্ভব হলেও শিশুরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন-মুক্ত রাখা এবং পরবর্তীতে দৈনিক সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ভালো মানের কনটেন্টে সীমাবদ্ধ রাখার সময়সীমা মেনে চলা উচিত। স্মার্টফোনের বদলে শিশুর হাতে ছড়ার বই, কাঠের ব্লক বা শিক্ষণীয় খেলনা, রং-পেন্সিল তুলে দিয়ে বিকল্প আনন্দ পেতে উৎসাহ দিতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়ম করে খোলা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে শারীরিক খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সান্নিধ্য দিতে হবে।

শিশুরা যেন রঙিন পর্দার কৃত্রিম আলোর কারণে বাস্তব শৈশবকে আড়াল করতে না পারে এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায় মুক্ত আকাশ ও সুস্থ শৈশব; সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

রংধনু ইউসিএলসি স্কুলে শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপিত
৩০ অক্টোবর ২০২৬

রংধনু ইউসিএলসি স্কুলে শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপিত

ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ইস্ট আলকন রংধনু প্রকল্পের রংধনু ইউসিএলসিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্ব শিশু দ...

শিশুর কাল্পনিক বন্ধু যেভাবে বিকাশে ভূমিকা রাখে
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশুর কাল্পনিক বন্ধু যেভাবে বিকাশে ভূমিকা রাখে

শিশুরা কখনো এমন কারো সঙ্গে কথা বলে, যাকে পরিবারের অন্য কেউ দেখতে পায় না। কখনো কাল্পনিক বন্ধুর জন্য খ...

শিশুদের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
২১ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

আজকের শিশুই আগামীর দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ। তারাই মূলত দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিশুর জন্মের স...

নারীসত্তার পবিত্রতা ও সৃষ্টির শক্তি উপলব্ধির সাধনাই কুমারীপূজা
২১ অক্টোবর ২০২৬

নারীসত্তার পবিত্রতা ও সৃষ্টির শক্তি উপলব্ধির সাধনাই কুমারীপূজা

মাতৃভাব মানবহৃদয়ের অন্যতম পবিত্র অনুভূতি। এই ভাবের মধ্যেই নিহিত রয়েছে স্নেহ, মমতা, শ্রদ্ধা ও শুদ্ধতা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সঠিক মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 5 ঘন্টা আগে