একেএম ফজলুল হক: কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে নৌবাহিনী পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) প্রতিষ্ঠানটিকে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে বন্দরের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে। এর আগে একই পদ্ধতিতে বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক।
নির্মাণের পর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক সিসিটি পরিচালনা করে আসছিল। তাদের সঙ্গে বন্দরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২ নভেম্বর। তবে নতুন অপারেটর নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়ায় সাইফ পাওয়ারটেকের পরিচালনার মেয়াদ আরো তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ সময়ের মধ্যে সিসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম ড্রাইডকের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক মূলত সমুদ্রগামী জাহাজ মেরামতের প্রতিষ্ঠান। বন্দর ব্যবস্থাপনায় তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এর আগে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ডিপিএম পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম ড্রাইডক ওই টার্মিনালের দায়িত্ব পায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এনসিটি পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, তিন সপ্তাহের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সিসিটির অপারেটর নিয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে বন্দর থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে লাভজনক এনসিটি দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই পরিচালনার ইজারা দিয়েছে সরকার। আগামী বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। ততদিন চট্টগ্রাম ড্রাইডকই এনসিটি পরিচালনা করবে।
বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় ৪৫ শতাংশ হয় এনসিটির মাধ্যমে। অন্যদিকে সিসিটির মাধ্যমে হয় প্রায় ১৪ শতাংশ। এই টার্মিনালটিও সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের (আরএসজিটি) মাধ্যমে পরিচালনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুটি টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডকের হাতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর ও ড্রাইডকের মধ্যে লিখিত চুক্তি থাকলেও বাস্তবে লোকবল ও যন্ত্রপাতিসহ টার্মিনালটির পরিচালনার কাজ করছে সাইফ পাওয়ারটেক। অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইডকের চুক্তির আড়ালে কার্যত সাইফ পাওয়ারটেকই টার্মিনাল পরিচালনা করছে। এ ব্যবস্থায় সাইফ পাওয়ারটেকের আগের মাশুলের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি মাশুলে এনসিটি পরিচালিত হচ্ছে। সিসিটির ক্ষেত্রেও একই হারে বাড়তি মাশুল নির্ধারণের বিষয়ে দরকষাকষি চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এক বার্থ অপারেটরের অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও সাইফ পাওয়ারটেকই পণ্য ওঠানামার কাজ করছে। মাঝখান থেকে কমিশন পাচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক। তাঁর মতে, নতুন অপারেটর নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশীয় অপারেটরদের পর্যায়ক্রমে কাজ দেওয়ার সুযোগ ছিল। এতে বন্দরের বাড়তি খরচ এড়ানো সম্ভব হতো।
সানা/আপ্র/০৪/১১/২০২৬