সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের আগেই কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বর্তমানে ‘সি-স্টেজে’ রয়েছে। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যেতে হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে। টারবাইনের মাধ্যমে জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এরপর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
কেন্দ্রটির নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে আবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। প্রয়োজনে একই প্রক্রিয়া দুই, তিন কিংবা চারবারও অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।
তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
মন্ত্রী আরো জানান, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। আগে এ কার্যক্রমে প্রায় ৪৯ জন রুশ বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন বলেও জানান মন্ত্রী।
সানা/আপ্র/০৪/১১/২০২৬