খেলোয়াড়ি জীবনের নেদারল্যান্ডসের কোনো ক্লাবে কখনও খেলেন শাভি এর্নান্দেস। কোচ হিসেবেও সেখানে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু ডাচ ফুটবলের সঙ্গে গভীর সংযোগ অনুভব করেন বার্সেলোনা ও স্পেনের এই কিংবদন্তি।
নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে তিনি শোনালেন ডাচ ফুটবলের সঙ্গে অদৃশ্য এক বন্ধনের গল্প। দুই বছরের বেশি সময় কোচিংয়ের বাইরে থাকা শাভির হাতেই জাতীয় দলকে তুলে দিয়েছে ডাচ ফুটবল ফেডারেশন। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের সঙ্গে ডাচদের চুক্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
কাতারের ক্লাব আল শাদে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে পথচলা শুরু শাভির। ২০২১ সালে দায়িত্ব নেন বার্সেলোনার। মাত্র ১১ বছর বয়সে যে ক্লাবের একাডেমিতে পা রেখেছে খেলে গেছেন ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত।
বার্সেলোনায় তার শেষ সময়টা ছিল ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। ২০২৪ সালের মে মাসে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় দায়িত্ব থেকে। এরপর আর কোথাও কোচিং করাননি। এবার শুরু করবেন নতুন অধ্যায়। এবারের বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে ডাচদের ছিটকে পড়ার দায় নিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন রোনাল্ট কুমান। তার স্থলাভিষিক্তি হচ্ছেন শাভি।
মজার ব্যাপার হলো, বার্সেলোনাতেও কুমানের বদলেই তিনি কোচ হয়েছিলেন। ৪৮ বছরের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিদেশি কোচ হতে যাচ্ছেন শাভি। সবশেষ বিদেশি কোচ ছিলেন এর্নষ্ট হ্যাপেল। কিংবদন্তি অস্ট্রিয়ান কোচের তত্ত্বাবধানে ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল ডাচরা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর শাভি শোনালেন তার ডাচ-সংযোগের গল্প। নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তিরা কীভাবে গড়ে দিয়েছেন তার ক্যারিয়ার। “ডাচ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হতে পারাটাকে বিরাট এক সম্মান বলে মনে করি।
বার্সার একাডেমিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ এবং রিনাস মিকেলসের মতো আরও অনেকের শক্তিশালী প্রভাব ছিল, আমি ডাচ ফুটবলের সঙ্গে একটি বিশেষ সংযোগ অনুভব করি। আপনি বলতে পারেন যে, আংশিকভাবে আমি ডাচ ফুটবলেরই সন্তান।
অন্যান্য মহান কোচ, বিশেষ করে লুই ফন খাল, যার কোচিংয়ে বার্সায় আমার অভিষেক হয়েছিল এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্টও একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
শাভি বললেন নেদারল্যান্ডসের ফুটবল দর্শনের প্রতি ভালো লাগার কথাও। সেই দর্শনের সঙ্গে আপোস না করেই দলকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে চান ৪৬ বছর বয়সী কোচ।
“নেদারল্যান্ডসের সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি এবং সুস্পষ্ট একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা আমাকেও দারুণভাবে আকর্ষণ করে: বল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর ভিত্তি করে সৃজনশীলতা, তাড়না এবং দৃঢ় প্রত্যয়পূর্ণ আক্রমণাত্মক ফুটবল।
“অবশ্যই, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জয়লাভ করা এবং তা সবসময়ই থাকবে, কিন্তু আমি এমনভাবে জিততে পছন্দ করি, যা সেই বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রতিফলিত করে এবং লোকে যা উপভোগ করতে পারে।
দলটির সম্ভাবনা আছে, পাশাপাশি আছে গড়ে তোলার মজবুত ভিতও। ফুটবলার, কর্মকর্তা এবং ডাচ ফেডারেশনের সকলের সঙ্গে মিলে এই চ্যালেঞ্জটি শুরু করার জন্য মুখিয়ে আছি আমি।”
সেই অভিযানের শুরুতে শাভির চ্যালেঞ্জটি অবশ্য বেশ কঠিন। নেশন্স লিগের ম্যাচে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার দল লড়বে জার্মানির বিপক্ষে।
ডিসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬