অধিনায়ক রাজাত পাতিদারের ব্যাটে ভর করে আইপিএলের প্লে-অফ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এরপর পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে গুজরাট টাইটান্সকে উড়িয়ে দিয়ে ৯২ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে তারা। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভিরাট কোহলি-রাজাত পাতিদারের দল।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত প্রথম কোয়ালিফায়ারে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে বেঙ্গালুরু। আইপিএলের প্লে-অফে এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে গুজরাট ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
পাতিদারের বিধ্বংসী ব্যাটিং
বেঙ্গালুরুর ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক রাজাত পাতিদার। মাত্র ৩৩ বলে ৫ চার ও ৯ ছক্কায় অপরাজিত ৯৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৮১-এরও বেশি। এই অসাধারণ ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরাও হন তিনি। ([ঞযব ঞরসবং ড়ভ ওহফরধ][২])
এক পর্যায়ে বেঙ্গালুরু ছিল ৯৪ রানে ৩ উইকেট হারানো অবস্থায়। সেখান থেকে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পাতিদার। দুজনে ৪৭ বলে ৯৫ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন। ক্রুনাল ২৮ বলে ৪৩ রান করেন।
শেষ ছয় ওভারে বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা তোলেন ১১৪ রান। পুরো ইনিংসে চার-ছক্কা থেকে আসে রানের সিংহভাগ। ৩৮টি বাউন্ডারির মাধ্যমে প্লে-অফে এক ইনিংসে সর্বাধিক বাউন্ডারির রেকর্ডও গড়ে দলটি। বিগত সব রেকর্ড ভেঙে প্লে-অফ ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে তারা।
কোহলির নতুন রেকর্ড
ম্যাচটি ছিল ভিরাট কোহলির জন্যও স্মরণীয়। ২৫ বলে ৪৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলার পাশাপাশি তিনি আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেন। এটি ছিল তার ২৮২তম আইপিএল ম্যাচ। ([ঞযব ঊপড়হড়সরপ ঞরসবং][৫])
কোহলি এদিন আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েন। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা চার মৌসুমে ৬০০ বা তার বেশি রান করার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
শুরুতেই ভেঙে পড়ে গুজরাট
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে গুজরাট। ওপেনার সাই সুদর্শনের হিট উইকেট আউটের মধ্য দিয়ে বিপর্যয়ের শুরু। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৫১ রানে ৫ উইকেট হারায় দলটি।
অধিনায়ক শুভমান গিল, সাই সুদর্শন, জস বাটলারসহ শীর্ষ সারির ব্যাটাররা ব্যর্থ হলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় গুজরাট। একসময় তাদের স্কোর ছিল ৮৮ রানে ৮ উইকেট।
সাত নম্বরে নেমে রাহুল তেওয়াতিয়া অবশ্য লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। ৪৩ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। জস বাটলার করেন ২৯ রান। তবে পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি তারা।
পেসারদের দাপট
বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জ্যাকব ডাফি। তিনি ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন। রাসিখ সালাম ও ভুবনেশ্বর কুমার নেন দুটি করে উইকেট। জশ হেইজেলউড একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ক্রুনাল পান্ডিয়া ব্যাটে ৪৩ রান করার পর বল হাতেও দুটি উইকেট তুলে নেন।
গুজরাটের সামনে আরেক সুযোগ
এই হারে গুজরাটের ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। প্রথম কোয়ালিফায়ারে পরাজিত হওয়ায় তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। সেখানে এলিমিনেটরে রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে শুভমান গিলের দল।
অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এখন আর মাত্র এক জয় দূরে আরেকটি আইপিএল শিরোপা থেকে। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠা দলটি এখন চোখ রাখছে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে।
সানা/আপ্র/২৭/৫/২০২৬