সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এক বিস্তারিত নিবন্ধে তার সীমিত যাত্রার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সংগ্রামে শেখ হাসিনার প্রায় দেড় যুগের শাসনের পতন ঘটে এবং তিন দিন পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
ড. হোসেন জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্ব ছিল মাত্র ৯ দিন। সেই সময়ে তিনি পুলিশ বাহিনীকে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলাপ-চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষুব্ধ, ভীত ও আস্থাহীন একটি বাহিনীকে আবার দায়িত্বে ফেরানো আমার জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল।’
তিনি অবহিত করেছেন যে, দেশে তিন দিন সরকারবিহীন থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে যায়, অনেক থানা লুট হয় এবং প্রায় দেড় হাজার অস্ত্র হারিয়ে যায়। এম সাখাওয়াত হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব অস্ত্র যত্রতত্র ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. হোসেন বলেন, স্বল্প দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে পুলিশের অস্ত্র অন্যদের হাতে ব্যবহারের অভিযোগ যাচাই করা জরুরি ছিল। তবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন সরকার থেকে সরে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসের অনুরোধে তা আর করা হয়নি।’
পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে পুলিশকে প্রকৃত অর্থে পেশাদার ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। তিনি সুপারিশ করেছেন, কনস্টেবল পর্যায়ে সরাসরি নিয়োগ ও বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা। এতে মধ্যপর্যায়ের পদগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে এবং অভ্যন্তরীণ পেশাগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।
ড. হোসেন লিখেছেন, ‘পুলিশ কমিশন গঠিত হলেও বাস্তব পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। পোশাক ও লোগো পরিবর্তন ছাড়া কাঠামোগত কোনো রূপান্তর ঘটেনি। একটি পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হলে নিয়োগ ও পদোন্নতি–ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক কাঠামো নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দক্ষ রাখতে এখনো বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। ড. হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সরকার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সানা/আপ্র/৪/৩/২০২৬