ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এ কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও চুলা মিটমিট করে জ্বলছে, আবার কোথাও গ্যাস প্রায় নেই বললেই চলে। এতে বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার।
মিরপুরের বাসিন্দা জাহানারা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করতে গিয়ে দেখেন চুলায় গ্যাসের চাপ খুবই কম। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লেগেছে রান্না করতে।
মধ্যবাড্ডার বাসিন্দা সুমাইয়া ইয়াসমিন জানান, সকালে শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য কোনো রান্না করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের পান্তা ভাত খেতে হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই সকালে ও রাতে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও দুপুরের দিকে কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম সীমিত করেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সীমিত গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিভাগের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এসি/আপ্র/২৩/০৭/২০২৬