রাজধানী ঢাকা থেকে পর্যায়ক্রমে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল নতুন স্থানে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাস টার্মিনালগুলো কার্যত ওয়ার্কশপ ও ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিনের পর দিন বাস মেরামত, রং ও অন্যান্য কাজ চলায় টার্মিনালগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাজধানীর বাইরে পৃথক ডিপো ও টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করা হবে কাঞ্চপুরে, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল যাবে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীত এলাকায়, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরসংলগ্ন এলাকায়। এ জন্য সেখানে প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মহাখালীর বাসগুলো অস্থায়ীভাবে ৩০০ ফুট এলাকায় নির্মিত ডিপো ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, নতুন ডিপোগুলো চালু হলেও প্রথম দিকে রাজধানীর বর্তমান টার্মিনালগুলো থেকে বাস ছেড়ে যাবে। তবে বাসগুলো সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করবে না; নির্ধারিত যাত্রার আগে এসে যাত্রী নিয়ে আবার গন্তব্যে রওনা হবে। ফলে টার্মিনালগুলো আর ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।
শেখ রবিউল আলম বলেন, রাজধানীর কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে যে অস্থায়ী টার্মিনাল তৈরি হয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ বন্ধ করা হবে।
তিনি জানান, রাজধানীর বাস পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে প্রতিটি রুটের বাস মালিকদের নিয়ে পৃথক কোম্পানি গঠন করা হবে। একই রুটে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন মালিকের বাস চলাচলের পরিবর্তে নির্দিষ্ট মান, রং ও ফিটনেসসম্পন্ন বাস কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সরকার পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাস নির্দিষ্ট স্টপেজ ও টার্মিনাল থেকেই যাত্রী ওঠানামা করবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক ও বিশৃঙ্খল বাস চলাচল কমে আসবে এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে।
তিনি আরো জানান, রাজধানীর সড়কের পাশে থাকা বাস কাউন্টারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ না হয়। এ বিষয়ে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মহানগর পুলিশ, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলবে। টয়লেট, অপেক্ষাকক্ষ, পাখা, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বাস মালিকরাও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বাস টার্মিনালগুলোর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
এসি/আপ্র/১৮/০৬/২০২৬