আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাইরে রেখে ঢাকা আইনজীবী সমিতির যে নির্বাচন হল, তাতে নিরঙ্কুশ জয় পেলেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।
সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) কার্যকরী কমিটির ২৩টি পদের সব কটিতে জয় পেয়েছে।
চার হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত মোহাম্মদ আবুল কালাম খান পেয়েছেন চার হাজার ৪৫ ভোট।
তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুলিয়ে উঠতে পারেননি জামায়াত-এনসিপি প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এস এম কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা এবার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) কোনো পদে জয়ী হতে পারেনি।
ভোট গণনা শেষে এ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন শুক্রবার মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষণা করেন।
তার আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ভোটগ্রহণ হয়। ২০ হাজার ৭৮৫ ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেই হিসেবে প্রায় ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম।
সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), জ্যেষ্ঠ সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (অ্যানি) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাহাদী হাসান জুয়েল জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া লাইব্রেরি সম্পাদক পদে খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক হিসেবে মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক) নির্বাচিত হয়েছেন।
সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন ও সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
নির্বাচনে ২৩টি পদে প্রার্থী ছিলেন ৫৫ জন। তাদের মধ্যে ২৩ জন করে ৪৬ জন প্রার্থী বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের, বাকি ৯ জন ছিলেন স্বতন্ত্র।
নির্বাচনে বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য নির্বাচন কমিশনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এটাই ছিল ঢাকা বারের প্রথম নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ অংশ নেয়নি।
আওয়ামী লীগ সমর্থক একাধিক আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে ‘অনুমতি’ না মেলায় তারা অংশ নিতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। তাতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
সেই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতদিন সেই অ্যাডহক কমিটিতেই চলছিল সমিতির কাজ। এবার ভোটের মধ্য দিয়ে সমিতি নতুন কার্যকরী কমিটি পেল।
সানা/আপ্র/০১/৫/২০২৬