গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন হয়নি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫৯ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৪ এএম ২০২৬
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন হয়নি
ছবি

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। পরে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয় -ছবি সংগৃহীত

সাভারে রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পার হলেও হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবার পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আহতদের স্থায়ী পুনর্বাসন ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত হন এবং প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত হন। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে রানা প্লাজার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। পরে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শ্রমিক ও স্বজনরা ভবন মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এত বছর পরও অধিকাংশ দায়ী ব্যক্তি শাস্তির আওতায় আসেননি।

গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের অনেকেই এখনও শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ জানান, চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রাথমিক কিছু সহায়তা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি।

শ্রমিকদের দাবি, আহতদের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি রানা প্লাজার জায়গায় একটি হাসপাতাল বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনেরও দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম আইনে এককালীন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বহু শ্রমিক এখনো আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

হত্যা মামলায় গতি, ইমারত মামলায় জট: সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত দুটি মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। তবে দীর্ঘ স্থবিরতার পর হত্যা মামলার কার্যক্রমে কিছুটা গতি এলেও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটি সাক্ষীর অভাবে কার্যত থমকে আছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা গেলে চলতি বছরের মধ্যেই রায় পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে ইমারত আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের পরও এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যায়নি, কারণ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীরা আদালতে হাজির হচ্ছেন না।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনের ভেতরে থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন। কয়েকদিনের উদ্ধার অভিযানে ১ হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত ও পঙ্গু হন।

ঘটনার পাঁচদিন পর ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভবনটির মালিক সোহেল রানাকে যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাকেই প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১ জুন সিআইডি দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে একটি মামলায় সোহেল রানা, তার বাবা-মা, তৎকালীন সাভার পৌরসভার মেয়র ও কমিশনারসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়। অপরদিকে ইমারত বিধি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগে আরেক মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘদিন এই মামলার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুনানি চলছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত যেসব সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই ভুক্তভোগীর স্বজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। রানা প্লাজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা গেলে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছালেও কার্যত অগ্রগতি নেই। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর মামলাটি পুনরায় সচল হলেও নির্ধারিত তারিখে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হচ্ছেন না। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থাকলেও কেউ উপস্থিত না হওয়ায় শুনানি হয়নি। পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

এ মামলায়ও ভবন মালিক সোহেল রানাসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও অধিকাংশ আসামি জামিনে অথবা পলাতক রয়েছেন। কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তারা সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা আসামিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হত্যা মামলায় কিছুটা গতি এলেও ইমারত আইনের মামলার এই স্থবিরতা রানা প্লাজা ট্রাজেডির বিচারপ্রক্রিয়াকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রেখে দিয়েছে।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ জরুরি
২৪ এপ্রিল ২০২৬

কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ জরুরি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, দলের কারও বিরুদ্ধে সাংগঠন...

রুশ বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
২৪ এপ্রিল ২০২৬

রুশ বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ঢাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও সোভিয়েত যুগের বীর শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা...

তাপপ্রবাহ বইছে ২১ জেলা, দুই বিভাগে ভারি বৃষ্টির আভাস
২৪ এপ্রিল ২০২৬

তাপপ্রবাহ বইছে ২১ জেলা, দুই বিভাগে ভারি বৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের ২১ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা শনিবারও অব্যাহত থাকতে...

এলডিসি উত্তরণে আরো সময় চাইল বাংলাদেশ
২৪ এপ্রিল ২০২৬

এলডিসি উত্তরণে আরো সময় চাইল বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময় বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই