জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই দশম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদানের বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ছয়টি রিট মামলা চলমান রয়েছে। এসব আইনি জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি নতুন করে দশম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও পেশাগত মানোন্নয়নে সাংবাদিক সুরক্ষা সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে। হুমকি, হামলা ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জেলা পর্যায়ে সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা জোরদার হবে এবং ভুয়া সাংবাদিকতা রোধ সহজ হবে।
তিনি জানান, ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ, তথ্যনীতি সহায়তা, ন্যারেটিভ তৈরি এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় মাসে দুইটি এবং ঢাকার বাইরে চারটি করে কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে মাসিক কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে এবং ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধে তথ্য অধিদফতর থেকে ২২টি ফটোকার্ড এবং ১০টি তথ্যবিবরণী জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিল আইন অনুযায়ী নীতিভঙ্গজনিত সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে আটটি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে দেশের ৩২টি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, দেশে বর্তমানে চারটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। ৫৫টি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমোদন থাকলেও ৩৭টি সম্প্রচার কার্যক্রমে রয়েছে। নতুন কোনো টেলিভিশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে নেই।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অসুস্থ, অসচ্ছল ও কর্মক্ষমতা হারানো সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এক হাজার একশত দশজন সাংবাদিক ও তাদের পরিবার সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি চারশত দুইজন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এ খাতে সরকারের মোট বরাদ্দ রয়েছে নয় কোটি চব্বিশ লাখ টাকা।
এছাড়া ২০২৬ সালের রমজান মাসে দুই হাজার সাংবাদিক পরিবারকে এক কোটি বারো লাখ তেত্রিশ হাজার টাকার ইফতার ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৪/২০২৬