গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি পদ শূন্য, তবু বেকারত্ব বাড়ছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৮ এএম ২০২৬
প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি পদ শূন্য, তবু বেকারত্ব বাড়ছে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশে সরকারি খাতে প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি পদ শূন্য থাকলেও বেকারত্ব ক্রমাগত বাড়ছে-এমন চিত্রে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো গভীর হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, এই হিসাব ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ।

গ্রেডভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গ্রেড ১ থেকে ৯ পর্যায়ে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, গ্রেড ১০ থেকে ১২ পর্যায়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, গ্রেড ১৩ থেকে ১৬ পর্যায়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং গ্রেড ১৭ থেকে ২০ পর্যায়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য শ্রেণিতে আরো ৮ হাজার ১৩৬টি পদ খালি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি শূন্যতা গ্রেড ১৩ থেকে ২০ পর্যায়ে, যা মূলত মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় প্রশাসনের সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সরকার শূন্য পদ পূরণে ধাপে ধাপে নিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক হাজার পদ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত শূন্য পদ ও নিয়োগ পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পদ খালি থাকার পেছনে নতুন পদ সৃষ্টি ও অবসরে যাওয়া জনবল প্রতিস্থাপনের ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীরগতির নিয়োগ প্রক্রিয়াও পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করেছে বলে জানা যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে অনুমোদিত পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নামের পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ দশমিক ৩ লাখ। এক বছরে বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ৩ লাখ বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে লাখো পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোবাশ্বের মোনেম জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি তাদের।

সরকারি উদ্যোগে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার পদ্ধতি আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার পরিকল্পনাও চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদ ও বেকারত্ব একসঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ছে। দ্রুত নিয়োগ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কার ছাড়া এ সংকট নিরসন কঠিন হবে।

 


সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঢাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, কমতে পারে তাপমাত্রা
০৩ জুন ২০২৬

ঢাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, কমতে পারে তাপমাত্রা

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বুধবার (৩জুন) বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহা...

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন ড. খলিলুর রহমান
০৩ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খ...

রহস্যময় সামুদ্রিক যানটি ঢাকায় নৌবাহিনীর হেফাজতে
০৩ জুন ২০২৬

রহস্যময় সামুদ্রিক যানটি ঢাকায় নৌবাহিনীর হেফাজতে

বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়া রহস্যময় সামুদ্রিক যানটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়...

প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে মায়ের নামে করার অনুমতি দিলেন না প্রধানমন্ত্রী
০৩ জুন ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে মায়ের নামে করার অনুমতি দিলেন না প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সম্মতি দেননি প্রধানমন্ত্রী তার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে