ইরানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ আবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে জাহাজটি বুধবার ভোরে গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।
রাস আল খাইর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু: জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় তারা বন্দরের অবস্থান ত্যাগ করেন। জাহাজে ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই রয়েছে। যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও অগ্রগতির জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখা হয়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। নাবিকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতের দিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতি পেরিয়ে অগ্রযাত্রা: চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদুল হাসান বলেন, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় চারশো নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে। ঘণ্টায় বারো নটিক্যাল মাইল গতিতে চলায় নির্ধারিত সময়েই প্রণালি অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি আরো জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও বাইরে আটকে থাকা বহু জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও ঝুঁকির অভিজ্ঞতা: ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে গত জানুয়ারিতে। এরপর কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহন ও অবস্থান করে এটি।
ফেব্রুয়ারিতে জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানের সময় আশপাশের এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নাবিকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বন্দরের কাছাকাছি একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজের গন্তব্য বারবার পরিবর্তন হয় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অগ্রসর হওয়া অনিরাপদ হয়ে পড়ে। ফলে জাহাজটি একাধিক বন্দরে অবস্থান করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে।
নিরাপত্তা নির্দেশে যাত্রা থামানো ও পুনরায় শুরু: এর আগে হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটিকে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে এটি শারজাহ ও পরে সৌদি আরবের বন্দরে অবস্থান করে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার নতুন করে যাত্রার অনুমতি পায় জাহাজটি।
নাবিকদের স্বস্তি ও প্রতিক্রিয়া: ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা মুক্তির মতো অনুভব করছেন। তিনি বলেন, “এতদিন আমরা চাপের মধ্যে ছিলাম, এখন মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেয়েছি।” চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও এখন নাবিকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে স্বস্তি অনুভব করছেন।
পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা: জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দর। চার্টার প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পণ্য পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নাবিকদের প্রত্যাশা, হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করতে পারলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে জাহাজটির স্বাভাবিক যাত্রা পুনরায় শুরু হবে।
সানা/আপ্র/৮/৪/২০২৬