গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মেনু

সংবিধান সংশোধনে রোববারের মধ্যে বিশেষ কমিটি, ইঙ্গিত চিফ হুইপের

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২০ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪১ এএম ২০২৬
সংবিধান সংশোধনে রোববারের মধ্যে বিশেষ কমিটি, ইঙ্গিত চিফ হুইপের
ছবি

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় -ছবি টিভি থেকে নেওয়া

সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি খুব শিগগির গঠন করার কথা বলেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকারি দল, বিরোধী দল, অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও কমিটিতে রাখার চিন্তা আছে। এ বিষয়ে তার দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী রোববারের মধ্যেই কমিটি গঠনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রেখেছিল সংসদ সচিবালয়।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।

এ নোটিসের ওপর মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনে সংসদে থাকা সব দলের ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে সরকারি দলের তরফে। তবে বিরোধী দল কমিটিতে উভয় পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব চায়।

সেদিন সংসদে জুলাই সনদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এতে সমর্থন দেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান এ কমিটি গঠনের বিষয়ে বলেন, সরকারি ও বিরোধী বেঞ্চ থেকে সমান প্রতিনিধিত্ব রেখে এমন কমিটি করা হলে তারা তা ইতিবাচকভাবে দেখবেন।

চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রোববারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়তোৃ খুব শিগগিরই এটা করবো।
কত সদস্যের কমিটি হতে পারে, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি। এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চায়। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলে অন্যান্য দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। এটা নির্দিষ্ট না।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্য সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বারবার আমাদের কাঁচি চালাতে না হয়। বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকার কথা বলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ বা কাল হোক সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে। আমরা সেটাই চাই ওনারা থাকুক। তারা কমিটিতে থাকবেন বলে আমরা আশা করি।
তার মতে, সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো রাস্তা নেই। জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করবো। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? ওনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটা দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।
সংসদ কমিটির বৈঠকের তথ্য দিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষে এমন সাউন্ড সিস্টেম বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যা শব্দ তৈরি হওয়ার এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে তা শোষণ করতে পারবে এবং প্রতিধ্বনি থাকবে না। অধিবেশন কক্ষে ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আগামী ১০ তারিখের মধ্যে বাসা প্রস্তুত করে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
গেল ২৮ মার্চের বৈঠকের পরও চিফ হুইপ বলেছিলেন, এমপিদের আবাসন বরাদ্দের কাজ ১০ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সংসদের অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈঠকে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনের শুরুতে সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাটের ঘটনায় আগেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সংসদ ভবন এলাকায় পানি সংকট এবং এমপিদের বাসা বরাদ্দের বিষয়টিও সংসদ কমিটির আলোচ্যসূচিতে ছিল। সংসদ কমিটির বুধবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
বৈঠকে অংশ নেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত।
সানা/আপ্র/১/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

হাসপাতালের খাবার মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২০ মে ২০২৬

হাসপাতালের খাবার মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খুলনা সদর হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।বুধবার (২০ মে) সক...

আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস
২০ মে ২০২৬

আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ফেসবুক...

খাদ্যঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রস্তুতি কতদূর
২০ মে ২০২৬

খাদ্যঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রস্তুতি কতদূর

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি ক্রমে...

বৃষ্টি কমায় বাড়ছে ভ্যাপসা গরম
২০ মে ২০২৬

বৃষ্টি কমায় বাড়ছে ভ্যাপসা গরম

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও রাজধানী ঢাকায় কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি অনেকটাই কমে গেছে। ফলে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে