যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের পর চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রথমবার সৌদি তেল ছাড়াই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়নি। অথচ চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন তেল শোধনাগারগুলো প্রতিদিন আট লাখ ব্যারেলের বেশি সৌদি অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। দেশটির অন্যতম বড় শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ফিলিপস-৬৬ জানিয়েছে, বিদেশি অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব হালকা ধরনের অপরিশোধিত তেল নিউ জার্সির শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক ল্যাশিয়ার জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের শোধনাগারের কাঁচামালের উৎসে বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সৌদি তেলের ঘাটতির কারণে মোট শোধনাগার কাঁচামালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অংশ এক শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে।
সৌদি অপরিশোধিত তেলের ওপর ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের বড় শোধনাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে শেভরন ও পিবিএফ এনার্জি। এ ছাড়া সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর মালিকানাধীন মোটিভা এন্টারপ্রাইজেস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শোধনাগার পরিচালনা করে। টেক্সাসের পোর্ট আর্থারে অবস্থিত ওই শোধনাগারটি সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে থাকে।
তবে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের ঘটনায় বিকল্প সুবিধা পেয়েছে ভেনেজুয়েলা। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলীয় অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বছরের শুরুতে যা ছিল প্রায় এক লাখ ব্যারেল।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি শূন্যে নেমে আসা সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬