মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া মিন অং হ্লাইং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সফরে লাওস যাচ্ছেন। নতুন বেসামরিক দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম সফর।
বুধবার (১ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সামরিক সরকারের প্রধান থেকে প্রেসিডেন্টের পদে হ্লাইংয়ের পরিকল্পিত রূপান্তরের চার মাস পর এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি মিয়ানমারের দুই বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত ও চীন সফর করেছেন।
রাষ্ট্র পরিচালিত ‘গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমা’র পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসুলিতের আমন্ত্রণে হ্লাইং তার স্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের ঊর্ধ্বতন সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে দেশটি সফর করবেন। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ১১ সদস্যের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী-সমর্থিত দল বড় ধরনের জয় পায়।
তবে নির্বাচনের পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন আসিয়ানের নেতারা। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান এবং থাইল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক সিহাসাক পুয়াংকেটকাও ইতোমধ্যে রাজধানী নেপিডো সফর করেছেন।
২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল হ্লাইং। ওই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা এখনও চলমান।
অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে আসিয়ান ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। পাশাপাশি সংস্থাটি মিয়ানমারের শাসক জেনারেলদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত রাখে। এর ফলে গত বছর পর্যন্ত হ্লাইং কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই একঘরে ছিলেন। তবে নির্বাচনে বিজয়ের পর হ্লাইং ঘোষণা দেন, আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ এশিয়া উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেন, লাওসে এই রাষ্ট্রীয় সফর নেপিডোর ওপর আসিয়ানের আরোপিত কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার নীতি ভাঙার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত।
তার ভাষ্য, এর ফলে ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’-এর রাজনৈতিক কার্যকারিতা দুর্বল হবে। একই সঙ্গে আসিয়ানের যেসব দেশ এখনও মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিরোধিতা করছে, তাদের জন্য সেই অবস্থান ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। সূত্র: রয়টার্স
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৭/২০২৬