যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার জবাবে আগের চেয়ে আরো কঠোর, ব্যাপক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরানের পাল্টা জবাব কেবল আঞ্চলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ইরানের আধা-সরকারি ফারস বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে শেকারচি বলেন, ‘এই অঞ্চল আরেক দফা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও ব্যাপক, আরও গুরুতর এবং আরও শক্তিশালী।’
জাহাজে হামলার অভিযোগ
এর আগে ফারস বার্তা সংস্থা জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ইরানি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
গত সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনের চেষ্টায় থাকা কিছু নৌযানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটন নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাত সপ্তাহ ধরে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে। একই সময়ে সংঘাতের স্থায়ী অবসান এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে আরেকটি উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে।
‘পাল্টা জবাব বৈধ অধিকার’
এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়া তাদের বৈধ এবং নিশ্চিত অধিকার।
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের এই কঠোর অবস্থান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সানা/আপ্র/২৭/৫/২০২৬