পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে কড়াকড়ির মধ্যে কলকাতার পশুর হাটে এবার ভিনরাজ্যের দুম্বার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। রাজধানী কলকাতার নাখোদা মসজিদসংলগ্ন এলাকা ও জাকারিয়া স্ট্রিটের অস্থায়ী পশুর হাটে রাজস্থানের জয়পুর থেকে আনা দুম্বা বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড দামে। এরই মধ্যে একটি দুম্বা বিক্রি হয়েছে দেড় লাখ রুপিতে।
রাজস্থানের ব্যবসায়ী সুরাজ কোরেশি এবার হাটে ৫০টি দুম্বা এনেছিলেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৩টি বিক্রি হয়ে গেছে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঈদের আগেই আরো দুম্বা আনার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
সুরাজ কোরেশি বলেন, এবারের বাজার বেশ ভালো। কোনো কোনো দুম্বা ৮০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ রুপি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত দুম্বার দাম তুলনামূলক বেশি হলেও এবার চাহিদা অনেক বেড়েছে।
তিনি দাবি করেন, দাম বাড়ার প্রধান কারণ সরবরাহ সংকট। বিভিন্ন জায়গায় পশুবাহী গাড়ি আটকে যাওয়ায় সময়মতো বাজারে পশু পৌঁছাতে পারছে না। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম কিছুটা কমে আসত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে সরকারি কড়াকড়ির কারণেই এবার ছাগল, খাসি ও দুম্বার বাজারে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় পশুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে আসা পশু ব্যবসায়ী নুরুল আমিন গাজী বলেন, মানুষ এবার গরুর পরিবর্তে বাধ্য হয়ে খাসি ও দুম্বা কিনছেন। এ কারণে বাজারে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত বছর যে দুম্বা ৪০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে, এবার সেটির দাম উঠেছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার রুপিতে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাটা মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রুপিতে। ২০ কেজি ওজনের একটি খাসির দাম পড়ছে প্রায় ২৭ হাজার রুপি। প্রতি বছর তিনি প্রায় ১০০টি পশু আনলেও এবার মাত্র ১৩টি এনেছেন। কারণ গ্রামাঞ্চলেও পশুর সংকট ও উচ্চমূল্য দেখা দিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী জাকারিয়া স্ট্রিটের হাটে রাজস্থানের দুম্বার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক খাসি ও ছাগল এসেছে। দাম চড়া হলেও কোরবানিদাতারা বাজেট বাড়িয়ে পছন্দের পশু কিনছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এসি/আপ্র/২৪/০৫/২০২৬