গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

যুদ্ধক্ষতির বিপুল ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৪ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৬ এএম ২০২৬
যুদ্ধক্ষতির বিপুল ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের
ছবি

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ন্যূনতম ২৭ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই দাবি উত্থাপন করে তেহরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড হামলায় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তাদেরও এই ক্ষতিপূরণে অংশ নিতে হবে।

জাতিসংঘে ইরানের দূত এ দাবি জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সংঘটিত হামলার দায় তাদের এড়ানোর সুযোগ নেই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের মাধ্যমেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি রুশ বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর দেশটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির খাতভিত্তিক বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, তেল-গ্যাস ক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। দেশজুড়ে সেতু, বন্দর, রেললাইন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, হাসপাতাল, স্কুল ও অসংখ্য আবাসিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ সরকারের হাতে নেই বলে স্বীকার করেছেন মুখপাত্র। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ইরানি এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, হামলায় অন্তত ২০টি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং আরও প্রায় ৬০টি অচল হয়ে পড়েছে। এতে কয়েকশ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে তেহরান, তাবরিজ, উরমিয়া ও খুররামাবাদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ এবং অব্যাহত চাপের মধ্যেও সম্ভাব্য আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলে প্রতিপক্ষ নতুন হামলার সুযোগ পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এসি/আপ্র/১৫/০৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফ্রান্স থেকে স্পেন, ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি
২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্স থেকে স্পেন, ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি

ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের প্রতিবাদে...

এলভিসের ২৭৪ গানের স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা
২৬ অক্টোবর ২০২৬

এলভিসের ২৭৪ গানের স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা

মার্কিন সংগীত কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির ২৭৪টি গানের স্বত্ব অনুমতি ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশ...

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন ফিলিস্তিনপন্থি লুলা
২৬ অক্টোবর ২০২৬

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন ফিলিস্তিনপন্থি লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারো জয় ছিনিয়ে আনলেন লুলা দা সিলভা। ৫১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে চতুর্...

সীমান্তে বিধিনিষেধে ইরানের স্থলবাণিজ্যও বড় সংকটে
২৬ অক্টোবর ২০২৬

সীমান্তে বিধিনিষেধে ইরানের স্থলবাণিজ্যও বড় সংকটে

মার্কিন নৌ-অবরোধ ও বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের নৌ ও আকাশপথের বাণিজ্য আগে থেক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে