ইরান বনাম ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের তেলের বাজারে দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠেছে। এতে চীনের অর্থনীতির জন্য বেশ সুবিধাজনক হয়েছেে।
তেলের আকস্মিক দাম বৃদ্ধিতে উদীয়মান পরাশক্তি চীনের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য দুটি বড় সুবিধা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রথমত,চীনের উৎপাদিত নতুন গাড়ির বেশির ভাগই বিদ্যুৎচালিত। দ্বিতীয়ত, এসব গাড়ি চালাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চীনের স্থানীয় উৎস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কয়েক দশক ধরে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন ও পুনঃ নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক) ক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। এর ফলে চীনের অর্থনীতি তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।
বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তিসহ বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বেইজিং।
গত বছরের তুলনায় চীনের পরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন ও ডিজেলের চাহিদা আবারও কমেছে। চীনের তেল ও গ্যাস ব্যবহার শীর্ষে পৌঁছালেও এসবের জন্য বিদেশি তেল-গ্যাসের ওপর দেশটি আগের মতো নির্ভরশীল নয়।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের চীনা এনার্জি গবেষণা প্রধান মিশেল মেইডান বলেন,অন্য দেশগুলোর তুলনায় চীনের জন্য সামান্য সুবিধা এবং নিরাপত্তা বাফার রয়েছে। ফলে সরবরাহ ঘাটতি বা দাম বৃদ্ধির কারণে চীনের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হচ্ছে না।
চীনের মোট প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় অর্ধেক মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমুদ্রপথে আসে। বেশ কিছু সুবিধার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক এশীয় দেশ চার দিনের কর্মসপ্তাহ বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মতো চরম ব্যবস্থা নিলেও চীনের জন্য তা প্রয়োজন হয়নি।
বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যানবাহন চলাচল আরো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্বের নেতারা জরুরি তেলের রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল অবমুক্ত করা তথা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। তবুও ট্যাঙ্কার ও কার্গো জাহাজে হামলার কারণে তেল সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।
এসি/১৪/০৩/২০২৬