আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে চলছিল বিতর্ক। হঠাৎ কথার লড়াই গড়াল হাতাহাতিতে।
একপর্যায়ে ঘুসি ও লাথি ছুড়তে শুরু করেন আইনপ্রণেতারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পার্লামেন্ট কক্ষ ছাড়িয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে করিডরেও।
গত বুধবারের (২৮ অক্টোবর) এই সংঘর্ষের ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। পরে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
বিরোধের সূত্রপাত কী নিয়েআর্মেনীয় সংবাদ সংস্থা আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক চলছিল।
এ সময় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য তারোন চাকোয়ান বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের আগের একটি মন্তব্য তুলে ধরেন।
বিরোধী পক্ষের এক আত্মীয় নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে নারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য আলাদা একটি ‘মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় চাকোয়ান ওই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানকে মনে করিয়ে দেন, তার চাচাতো ভাই এখনো ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি বলে দাবি করা হচ্ছে।এরপর নিজের আসনে বসেই জবাব দেন কারাপেতিয়ান।
পরে তিনি বক্তৃতামঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।লাথি-ঘুসিতে উত্তপ্ত পার্লামেন্টকথার তর্ক দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে লাথি ও গুসি বিনিময় হয়।
একপর্যায়ে করিডরেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য সংসদ সদস্যরা তাদের আলাদা করার চেষ্টা করেন।ঘটনার সময় অশালীন ভাষা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিরোধী নেতাকে দায়ী করলেন স্পিকারসংঘর্ষের পর বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ানকে ঘটনার জন্য দায়ী করেন পার্লামেন্টের স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান।স্পিকার বলেন, বিরতির সময় তিনি ঘটনার ভিডিও দেখেছেন।
চাকোয়ানের বক্তব্যে তিনি আপত্তিকর কিছু পাননি বলে দাবি করেন।কারাপেতিয়ানকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, তিনি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, আসন থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং পরে উঠে তারোন চাকোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন।
স্পিকার আরও বলেন, সংঘর্ষ শুরু হলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য গার্নিক দাভতিয়ান চাকোয়ানকে একবার আঘাত করেন।
ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে রুবিনিয়ান বলেন, পার্লামেন্টের ভেতরে কী ঘটছে, তা জনগণের দেখা উচিত বলে তিনি সম্প্রচার চালু থাকতে দিয়েছেন।আহত সংসদ সদস্য, পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সসংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভবনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে।
ইউএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আন্দ্রানিক গেভরগিয়ানের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আরেক সংসদ সদস্য রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাক ছিঁড়ে যায়।সংঘর্ষে আর কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ডিসি/ আপ্র/২৯/১০/২০২৬