ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি বয়ে গেছে দমকা হাওয়া। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকে ছিল আকাশ।
সকালে কলকাতায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হয়। বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শেঠ সুখলাল কর্ণানি মেমোরিয়াল হাসপাতালের সামনেও পানি জমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কলকাতার তুলনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি। সেখানে বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গঙ্গাসাগর, বকখালি, দীঘা ও মন্দারমণিসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় সমুদ্রে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে রাজ্যের সেচ দপ্তর। আগামী ১ নভেম্বর সেচ দপ্তরের আঞ্চলিক বন্যা নিয়ন্ত্রণকক্ষ বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে আরও কয়েক দিন তা চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ নদীতে পানির পরিমাণ কম থাকায় বৃষ্টির পরও পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেচ দপ্তরকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক প্রীতম সাহা জানান, এলাকার সব ব্লক অফিসে ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা। সব গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ও খোলা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় জল মজুত রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মহকুমাশাসক।
ডিসি/ আপ্র/২৯/১০/২০২৬