ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলন শেষে রোববার রাশিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে তার। তবে সফর ঘিরে পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো—বিদেশ সফরের সময় তার মলমূত্রও রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য যাতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে না যায়, সে জন্য তার দেহরক্ষীরা সফরের সময় মলমূত্র সংগ্রহ করে বিশেষ স্যুটকেসে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, মলমূত্রের নমুনা বিশ্লেষণ করে কারো পক্ষে পুতিনের স্বাস্থ্য, শারীরিক অবস্থা কিংবা সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ যেন না থাকে।
পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর আগেও নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তার আশপাশে কর্মরত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। এমনকি তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগে হাতঘড়ি খুলে রাখা এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলার কথাও উঠে এসেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস। সংস্থাটি রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিসের অধীনে কাজ করে। এর শিকড় সাবেক সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির সঙ্গে যুক্ত। পুতিনও একসময় কেজিবির কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের বিদেশ সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত থাকে। সবচেয়ে ভেতরের স্তরে থাকেন তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা। এরপর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করেন। তৃতীয় স্তরে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং বাইরের ব্যক্তিদের পুতিনের কাছাকাছি যেতে বাধা দেওয়া হয়। সবচেয়ে বাইরের স্তরে উঁচু ভবনের ছাদে অবস্থান করেন স্নাইপাররা।
ভারত সফরেও পুতিনকে ঘিরে রাশিয়া ও ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের পাশাপাশি ভারতের বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী ও দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্ব পালন করছে।
পুতিনের চলাচলের পথ, আশপাশের এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। বিশেষ ড্রোন, সংকেত প্রতিরোধী ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গাড়িবহরের যাত্রাপথে থাকা উঁচু ভবনগুলোতে স্নাইপার মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।
পুতিনের স্থল নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ তার বিশেষায়িত গাড়ি। বুলেট ও বোমা প্রতিরোধী অরাস সেনাট লিমুজিনকে ‘চলন্ত বাঙ্কার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এতে জরুরি অক্সিজেন, রান-ফ্ল্যাট টায়ার, সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একাধিক নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আকাশপথেও পুতিনের নিরাপত্তায় রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তিনি সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে ভ্রমণ করেন, যেটিকে রুশ গণমাধ্যম ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ নামে অভিহিত করে। বিমানটিতে নিরাপদ যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা যায়। পুতিনের প্রকৃত বিমান শনাক্ত করা কঠিন করতে একই রুটে সহায়ক বিমানও রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। বিদেশ সফরে পুতিনের খাবার স্থানীয় হোটেলের রান্নাঘরে তৈরি না করে তার সঙ্গে থাকা রুশ রাঁধুনিরা প্রস্তুত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খাবারের উপাদান পরীক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীরা খাবার চেখে দেখেন বলেও দাবি করা হয়।
সবশেষে পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ ও রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকেই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম অস্বাভাবিক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ ধরনের তথ্য মূলত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।
এসি/আপ্র/১২/০৯/২০২৬