নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র। নেপালের বিদুর এলাকায় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে একসঙ্গে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, মাটির নিচে আরো মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।
নেপালের পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত বিদুর এলাকার ওই বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরো মরদেহ থাকার আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ওই এলাকায় নতুন করে উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বেত্রাবতী পৌরসভার কর্মকর্তা মঙ্গল তামাং জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি শিশুর এবং বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের। এরই মধ্যে ছয়টি মরদেহ হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো আপাতত ওই এলাকাতেই রাখা হয়েছে। পরে সেগুলোও রাজধানীতে নেওয়া হবে।
উদ্ধার অভিযান আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তামাং বলেন, ওই বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও আবার তল্লাশি চালানো হবে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে, নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় মোট প্রাণহানি ৯৫০ ছাড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৯৩৯। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুধু প্রাণহানিই নয়, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। নেপালে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে চীনে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন।
বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার পানির প্রবল স্রোতকে ‘তরল সিমেন্টের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রবল স্রোত, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ হাজারো মানুষকে দ্রুত খুঁজে বের করা। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসি/আপ্র/০১/০৯/২০২৬