পাকিস্তান ও চীনের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় জার্মানির কাছ থেকে ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নিজেদের নৌ সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি রুপি।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবমেরিন কেনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় কমিটির বৈঠকে ‘প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া’ বা ‘পি-৭৫ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে জার্মানির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস এবং ভারতের মুম্বাইভিত্তিক মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড যৌথভাবে সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করবে। ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রচলিত সাবমেরিন সাধারণত ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও ব্যাটারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পারমাণবিক সাবমেরিনের তুলনায় এগুলো আকারে ছোট এবং তুলনামূলক কম শব্দ উৎপন্ন করে। তবে পানির নিচে অবস্থানের সময়ও তুলনামূলকভাবে সীমিত।
ভারত যে নতুন ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, সেগুলোতে ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন’ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে। এই প্রযুক্তির কারণে সাবমেরিনগুলো প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে এবং শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।
প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ মিটার, প্রস্থ প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৬ দশমিক ২ মিটার হতে পারে। এগুলো বিশেষ ধরনের ইস্পাত দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পানির নিচে সাবমেরিনের চৌম্বকীয় সংকেত বা স্বাক্ষর কম থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবমেরিনগুলোতে টর্পেডো ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্করণ ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর পানির নিচের যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর—দুই সমুদ্রাঞ্চলেই নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা সম্ভব হবে।
অত্যাধুনিক সাবমেরিন নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়। এরপর ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের বিষয়টি ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ পর্যায়ে তালিকাভুক্ত করা হয়। সে সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার কোটি রুপি। পরবর্তী সময়ে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে আশির দশকের শুরুতে জার্মানির হাউন্ডসওয়ার্ক-ডয়চে ওয়েরফ্টের কাছ থেকে চারটি সাবমেরিন কিনেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী।
এ ছাড়া প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ডিসিএনএসের সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ছয়টি কলভরি শ্রেণির স্করপেন সাবমেরিন নির্মাণ শুরু করে ভারত। ওই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট ৭৫’।
এই সিরিজের প্রথম সাবমেরিন আইএনএস কলভরি ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে সিরিজের শেষ সাবমেরিনটি নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়। এরপর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনো সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়নি।
এসি/আপ্র/১৬/০৮/২০২৬