খান অপূর্ব আহমদ
নাক ডাকা এমন একটি সমস্যা যেটি শুধু নিজের জন্যই বিব্রতকর নয়, আশপাশের মানুষও এর ফলে বিড়ম্বনায় পড়েন। এর আছে নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। নারী-পুরুষ সব বয়সের মানুষই নাক ডাকার সমস্যায় ভুগতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। শীতকালে বাড়তে পারে এটি।
নাক ডাকার কারণ: নাক থেকে ফুসফুস পর্যন্ত যে জায়গাটা আছে, সেখানে বাতাস প্রবাহ হয়। যে কোনো কারণে যদি শ্বাসের রাস্তায় বাতাস প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় তাহলেই একজন ব্যক্তির ঘুমের ভেতর নাক ডাকা শুরু হয়। বিভিন্ন কারণে নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। তা হলো স্থূলতা- অত্যাধিক ওজন হলে অনেকে নাক ডাকেন; নাকের বিভিন্ন সমস্যা তথা নাকের হাড় কারো বাঁকা, নাকের ভেতর পলিপ, নাকে মাংসের বৃদ্ধি থাকলে নাক ডাকতে পারেন; অত্যাধিক চর্বি জমার কারণে মুখের ভেতর জায়গা কমে গেলে; শ্বাসনালিতে বিভিন্ন ধরনের টিউমার হলে নাক ডাকতে পারেন; জিহ্বার পেছনের অংশে টিউমার থাকলেও নাক ডাকতে পারেন; কারো অনেক বড় টনসিল থাকলে; শিশুদের ক্ষেত্রে আরেক ধরনের টনসিল এডিনয়েড বড় থাকলে নাক ডাকতে পারে।
নাক ডাকলে যা ঘটে: ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে, জোরে জোরে শব্দ করে নাক ডাকতে থাকবে; ঘুমের মধ্যে গোঙানির মতো শব্দ হবে; নাক ডাকা সমস্যার কারণে অসম্পূর্ণ ঘুম হবে; দিনের বেলায় ঘুম ঘুম, ঝিমুনি ভাব থাকবে; অবসাদগ্রস্ততা ও দুর্বলতা দেখা দেবে; ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাবে; যৌনক্ষমতা হ্রাস পাবে; মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে; শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়।
নাক ডাকার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়: যারা অত্যাধিক নাক ডাকেন তাদের অবশ্যই একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। নাক, গলা ভালো করে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ বের করতে হবে। প্রয়োজনে এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্নভাবে পরীক্ষা মাধ্যমে সমস্যা শনাক্ত করতে হবে। কোন লেভেলে সমস্যাটা হচ্ছে, নাকের সামনের দিকের অংশের কারণে হচ্ছে নাকি পেছনের দিকের অংশের কারণে সেটি নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে পলিসমনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্ত করতে হবে। এ ছাড়া নাক ঠিক থাকলেও শারীরিক অবস্থা কী আছে, গলা ও নাকের আশেপাশে চর্বি জমে আছে কি না, অতিরিক্ত ওজন আছে কি না সেটি দেখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।
যারা নিয়মিত অ্যালকোহল ও ধূমপান করেন, তাদেরও নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে। তাদের এসব এড়িয়ে চলতে হবে। নাকের হাড় বাঁকা, পলিপ বা টিউমারের কারণে নাক ডাকলে সেই অনুযায়ী সমস্যা চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিতে হবে। নাকের স্প্রে, বিভিন্ন ওষুধ ও ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। আর না কমলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সার্জারি করার কথা বলেন এই চিকিৎসক।
নাক ডাকা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে, নাক ডাকা একটি রোগ সেটি বুঝতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, ব্যায়াম, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ বাড়াতে হবে, ধূমপান, অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে। নাকের পলিপ, সাইনোসাইটিসের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে।
লেখক: সাংবাদিক
আপ্র/কেএমএএ/২৭.০৬.২০২৬