মাগুরায় পানিতে জাগ দেওয়া পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে, পুকুরপাড়ে ও নদীর তীরে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। দুই আঁটি আঁশ ছাড়ালে এক আঁটি পাটখড়ি পাওয়া যায় এখানে। একই সঙ্গে পাটখড়ি ঠিকঠাক করতেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারী-পুরুষরা।
মাগুরা সদর উপজেলার বেলনগর, কুঁচিয়ামোড়া, মহাম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিতে জাগ দেওয়া পাট তুলে আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে ও পুকুরপাড়ে পাটের আঁশ ছাড়ানো এবং পাটখড়ি ঠিকঠাক করার কাজে ব্যস্ত গৃহবধূ আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে পাটখড়ির জন্য কাজ করছি। দুই আঁটি পাটের আঁশ ছাড়ালে এক আঁটি খড়ি আমি পাব। দিনে ৫০ থেকে ৬০ আঁটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারলে অর্ধেকটা খড়ি মালিকের কাছ থেকে নিতে পারি। এতে মালিকও লাভবান হন, আমরাও লাভবান হই।’
মহাম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নবগঙ্গা নদীতীর এলাকায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন সাহেব মোল্লা (৫০), আলতাব হোসেন (৫২), ইসলাম বিশ্বাস (৩৮), মালেক (৫২) ও কালাম মোল্লাসহ (৫০) বেশ কয়েকজন শ্রমিক। তারা আঁটি চুক্তিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন।
হান্নান হোসেন বলেন, ‘এ বছর শুরুতে পাটের দাম ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত থাকায় কৃষকেরা বেশ খুশি হয়েছিলেন। এভাবে দাম ভালো থাকলে ভবিষ্যতে কৃষকেরা পাট চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।’
কৃষকদের আশা, ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তারা লাভবান হবেন এবং আগামী মৌসুমে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। মাগুরা অঞ্চলে এবার উচ্চফলনশীল জাতের পাটের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর মাগুরায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, কৃষকেরা পাটের ন্যায্য দামও পাবেন।’
কেএমএএ/আপ্র/১৬.০৮.২০২৬