রাজনীতি আর সংঘাতের জেরে প্রায় এক দশক ধরে ভারতে গান গাওয়া নিষিদ্ধ পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন।
ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন। তাই যারা তাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, উল্টো তাদেরই ধন্যবাদ জানিয়েছেন আতিফ। ইউটিউবার ক্রিস ফেড-এর টকশোতে সম্প্রতি উপস্থিত হয়ে নিজের মিউজিক ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন ‘তেরে বিন’খ্যাত এই গায়ক।
আতিফ আসলাম বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর হতে চলল ভারতে আমার গান গাওয়া নিষিদ্ধ। এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, তারা পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীরা নিষিদ্ধ। তবে এই এক দশকে আমার গান থেমে থাকেনি।’ তার কথায়, ‘ভারতীয় ভক্তরা এখনও ভিপিএন ব্যবহার করে আমার গান শোনেন।
তারা সিডি বার্ন করে একে অপরের হাতে পৌঁছে দেন। যদিও আমি পাইরেসি সমর্থন করি না, তবে সত্য এটাই সংগীতের পৌঁছানোর জায়গায় ঠিকই পৌঁছে যায়।’
কাজের জায়গা নিয়ে কোনো আফসোস নেই জানিয়ে আতিফ আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা সবসময় বলতে চেয়েছি আমি ভারতীয় ভক্তদের মিস করি, তবে সেখানে কাজ করাটা মিস করি না।
প্লেব্যাক থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু যদি এই নিষেধাজ্ঞা না আসত, তবে হয়তো আমি নিজে স্বাধীনভাবে গান তৈরি করতে পারতাম না। নিজেকে নতুনভাবে চেনার এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সেখানে নিষিদ্ধ করেছিলেন।’
বলিউডে ‘আদাত’, ‘ওহ লমহো’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরা হোনে লাগা হু’ ও ‘জিনা জিনা’র মতো একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন আতিফ। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়া ও কনসার্ট মঞ্চে তার জনপ্রিয়তা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই পাকিস্তানি সংগীত তারকা।
ডিসি/আপ্র/১২/০৮/২০২৬