গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মেনু

ছেলেকে লেখা রাহুলের শেষ চিঠি পড়ে কাঁদছে পৃথিবী

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৪৪ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৪ এএম ২০২৬
ছেলেকে লেখা রাহুলের শেষ চিঠি পড়ে কাঁদছে পৃথিবী
ছবি

সন্তানের সঙ্গে রাহুল -ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সমুদ্রের ঢেউ কখনও থেমে যায়, কিন্তু কিছু শব্দ থামে না—সেগুলো বয়ে চলে মানুষের হৃদয়ের ভেতর দিয়ে, অশ্রুর মতো। তালসারির সেই নিস্তব্ধ সৈকতে হঠাৎ থেমে গেছে এক প্রাণ, কিন্তু তার লেখা একটি চিঠি যেন আজ সমগ্র পৃথিবীর বুক ভাসাচ্ছে কান্নায়।

সদ্য প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ছেলেকে লেখা একটি চিঠি এখন আর শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়—এটি হয়ে উঠেছে এক অমোচনীয় আবেগের দলিল। তার মৃত্যুর পরপরই,  রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই চিঠি পড়তে পড়তে অগণিত মানুষ অনুভব করছেন এক বাবার হৃদয়ের গভীরতম স্পন্দন।

এই চিঠি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এরপরই যেন শব্দগুলো আর স্থির থাকেনি—একজন থেকে আরেকজনের কাছে পৌঁছে যেতে যেতে তা হয়ে উঠেছে সম্মিলিত বেদনার ভাষা। কেউ লিখেছেন—এ চিঠি নয়, এ এক বাবার নীরব কান্না; কেউ বলেছেন—এ যেন নিজের বাবাকেই নতুন করে খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি।

২০২১ সালের বাবা দিবসে লেখা এই চিঠিতে রাহুল নিজের সমস্ত সত্তা মেলে ধরেছেন সন্তানের সামনে। লিখেছেন, এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে চিঠি লেখার পেছনে কোনো সামাজিক নিয়ম নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত আকুলতা কাজ করেছে—সন্তানকে একটু বেশি করে ছুঁয়ে দেখার, তার আরও কাছে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

চিঠির ভেতর দিয়ে ভেসে ওঠে এক দীর্ঘ পথচলার গল্প—তার এবং সন্তানের মা প্রিয়াঙ্কা সরকার-এর। এক কিশোরী আর এক তরুণ, যাদের প্রথম পরিচয় অভিনয়ের সেটে, সম্পর্ক ভাই-বোনের চরিত্রে—সেই সম্পর্কই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপ নেয় বন্ধুত্বে, ভালোবাসায়, এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারে। দিনের শেষে সেটের নির্জন কোণে বসে গল্প করা, স্বপ্ন দেখা—এই সাধারণ মুহূর্তগুলোই হয়ে ওঠে তাদের অসাধারণ জীবনের ভিত্তি।


 

স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে রাহুল -ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

নিজেদের সাধারণ শেকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ছেলেকে বোঝাতে চেয়েছেন সংগ্রামের মূল্য। অপমান, অবহেলা আর অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা সেই পথ সহজ ছিল না। তাই তিনি অনুরোধ করেছেন—যদি কখনও ছেলে এই জগতে পা রাখে, তবে যেন প্রতিটি মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়। কারণ, মানুষের মর্যাদা কখনও তার অবস্থান দিয়ে মাপা যায় না। যে হাত একদিন চা বাড়িয়ে দেয়, সেই হাতেরও ইতিহাস আছে—এই উপলব্ধিই মানুষকে বড় করে।

চিঠির এক কোমলতম স্তরে এসে তিনি স্পর্শ করেছেন পিতৃত্বের প্রথম আনন্দকে। সন্তানের আগমনের খবর, প্রতিদিন তার বেড়ে ওঠার ছোট ছোট তথ্য, মায়ের উচ্ছ্বাস—সবকিছুই যেন এক নির্মল আনন্দের জোয়ার। সন্তানের জন্মের পর মায়ের যে রূপ তিনি দেখেছেন, তা তাকে বিস্মিত করেছে—অক্লান্ত পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ যত্ন, নিজের হাতে প্রতিটি খাবার তৈরি করা—এ যেন ভালোবাসার এক নিরবচ্ছিন্ন সাধনা।

কিন্তু এই আলোছায়ার গল্পে অন্ধকারও আছে। সামাজিক মাধ্যমের নির্মমতা, কটু মন্তব্য, অপমান—সবকিছুর ভেতর দিয়েও একজন মা কীভাবে নিজের শক্তি ধরে রাখেন, তা তিনি ছেলেকে জানাতে চেয়েছেন। লিখেছেন, সন্তানরা শুধু মায়ের স্নেহ অনুভব করে, কিন্তু তার পিঠে গাঁথা অদৃশ্য আঘাতগুলো দেখতে পায় না। সেই ক্ষতগুলোকে বোঝা, সেগুলোর পাশে দাঁড়ানো—এটাই সন্তানের সত্যিকারের দায়িত্ব।

চিঠির শেষভাগ যেন এক গভীর উত্তরাধিকার ঘোষণার মতো। তিনি ছেলেকে দিয়ে যান তার জীবনের সমস্ত ভালোবাসা—নদী, পাহাড়, জঙ্গল, বইমেলার ধুলো, কলেজ স্ট্রিটের পথ—সবকিছুই যেন এক বিস্তৃত মানচিত্র, যেখানে ছেলেটি নিজের শেকড় খুঁজে পাবে। আর সবচেয়ে বড় যে সম্পদ, তা হলো তার ভাষা—বাংলা। শুধু একটি ভাষা নয়, বরং তার সব উপভাষা, তার সব রঙ, তার সব ঐশ্বর্য—সবকিছু তিনি সন্তানের হাতে তুলে দেন এক অমর সম্পদের মতো।

শেষে, একটুখানি হাসি মিশে থাকে তার কথায়। তিনি নিজেই প্রশ্ন করেন—তিনি কে, যে এত উপদেশ দিচ্ছেন? আর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন—তিনি বাবা। এই পরিচয়ই তার সবচেয়ে বড় অধিকার, সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আজ তালসারির আকাশ নীরব, ক্যামেরা নিভে গেছে, আলো বন্ধ। কিন্তু একটি চিঠি এখনও জ্বলছে—অক্ষরে অক্ষরে, অনুভূতিতে অনুভূতিতে।

একজন মানুষ চলে গেছেন, কিন্তু একজন বাবা থেকে গেছেন—তার সন্তানের কাছে, এবং এই পৃথিবীর প্রতিটি সংবেদনশীল হৃদয়ের গভীরে।

একটি চিঠি, একটি জীবন, আর এক অনন্ত শূন্যতা—যা আজ স্পর্শ করছে সমগ্র পৃথিবীর হৃদয়।

সানা/আপ্র/৩০/৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দ্বিতীয়বার হুমকিতে আতঙ্ক, রোহিত শেট্টির কাছে এবার ২০ কোটি টাকা দাবি
২৯ জুন ২০২৬

দ্বিতীয়বার হুমকিতে আতঙ্ক, রোহিত শেট্টির কাছে এবার ২০ কোটি টাকা দাবি

বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেট্টিকে ফের প্রাণনাশের হুমকি ও মোটা অঙ্কের অর্থ দাবির অভিয...

উত্তরবঙ্গের আয়ুষের হাতে সারেগামাপার সেরার মুকুট
২৯ জুন ২০২৬

উত্তরবঙ্গের আয়ুষের হাতে সারেগামাপার সেরার মুকুট

টেলিভিশনের পর্দায় সম্প্রচারিত হলো জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’-এর বহুল আ...

আবারও একসঙ্গে সঞ্জয়-নোরা ফাতেহি, আসছে ‘চ্যাম্পিয়ন’
২৭ জুন ২০২৬

আবারও একসঙ্গে সঞ্জয়-নোরা ফাতেহি, আসছে ‘চ্যাম্পিয়ন’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সির সির’ গান দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাংলাদেশি-আম...

ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি ঘৃণা নেই: তটিনী
২৭ জুন ২০২৬

ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি ঘৃণা নেই: তটিনী

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক, তখন ভিন্ন বার্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 9 ঘন্টা আগে