কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল প্রথম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের। কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব আয়োজিত এবারের উৎসবে দেশের ৫টি বাংলা চলচ্চিত্র, ১টি ইংরেজি চলচ্চিত্র এবং ১টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এবারের উৎসবে পুরস্কার জিতে নিয়েছে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ‘ছায়াবৃক্ষ’, সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন একই সিনেমার জন্য অপু বিশ্বাস।
এছাড়াও সেরা পরিচালক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ‘ছায়াবৃক্ষ’ নির্মাতা বন্ধন বিশ্বাস, সেরা অভিনেতা যৌথভাবে ‘ছায়াবৃক্ষ’র জন্য নিরব এবং ‘ময়নার চর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ইমন। পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ‘ছায়াবৃক্ষ’ চলচ্চিত্রের জন্য এলিনা শাম্মী।
পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ‘জলরং’ চলচ্চিত্রের জন্য রাশেদ মামুন অপু। শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্র ‘ডট’-এর প্রযোজক বড়ুয়া মনোজিত ধীমন।
এবারের উৎসব প্রসঙ্গে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভালো গল্প, সুস্থ সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আরও সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রচর্চা এগিয়ে নিতে চাই।
এছাড়াও সমুদ্রের তীরে খোলা আকাশের নিচে একসঙ্গে বসে একটি গল্প দেখা, এ সহজ অথচ গভীর অভিজ্ঞতাই এখানে মূল আকর্ষণ ছিলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজার এতদিন কেবল পর্যটনের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে ধীরে ধীরে এটি নিজেকে গড়ে তুলছে একটি সম্ভাবনাময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে।’
কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের প্রত্যাশা, এ আয়োজন ধারাবাহিকতা পেলে এ সৈকতই হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ। আগামী বছর থেকে উৎসবের পরিসর বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় কক্সবাজার লাবণী সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণ। প্রথম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর সহযোগিতায় গণযোগাযোগ অধিদফতর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং ঢাকা ফিল্ম ক্লাব।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৩/২০২৬