নাট্যকার ও পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। হৃদরোগের সমস্যায় ভুগতে থাকা এই তরুণ নির্মাতা মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর উত্তরায় নিজের বাসায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর।
নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু সজীবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসায় চিকিৎসক ডাকা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সজীবের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজমপুরের দক্ষিণখানে। বাদ জোহর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সেখানকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
তার অকাল মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে সজীবের সঙ্গে তাদের স্মৃতি ও তার সৃষ্টিশীলতার কথা তুলে ধরেছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সজীবের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেন, তার সঙ্গে খুব বেশি কাজ করা না হলেও বহুবার দেখা হয়েছে। নিয়মিত নাটকে অভিনয়ের সময় দেখা হলেই নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। সজীবের অনেক পরিকল্পনা ও ভাবনা ছিল এবং আরো অনেক কাজ করার ইচ্ছা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সজীবের আত্মার শান্তি কামনা করে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি দেওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেহজাবীন।
নির্মাতা শিহাব শাহীন শোক প্রকাশ করে জানান, প্রায় ৪০ বছর বয়সী সজীব বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তার হৃদযন্ত্রের বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তরুণ এই সহকর্মীর মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
আরেক নির্মাতা তুহিন হোসেনও সজীবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
গল্প থেকে নাট্যরূপ, নির্মাণে নিজস্বতা: নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে সজীবের বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছিল তার নিজস্ব নির্মাণশৈলীর কারণে। শুধু পরিচালনাই নয়, তিনি নিজেই গল্প লিখতেন এবং সেই গল্পকে নাট্যরূপ দিয়ে নির্মাণ করতেন। ফলে তার কাজের মধ্যে গল্প ও নির্মাণের নিজস্ব সমন্বয় দেখা যেত।
তার নির্মিত নাটকের তালিকায় রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’ ও ‘দু’জন দুজনার’।
এ ছাড়া ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’সহ আরো অনেক নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি।
মাত্র ৪০ বছর বয়সেই সজীবের চলে যাওয়া তাই শুধু একজন নির্মাতার অকালপ্রয়াণ নয়, নাট্যাঙ্গনে সম্ভাবনাময় এক সৃষ্টিশীল যাত্রার আকস্মিক সমাপ্তিও। সহকর্মীদের স্মৃতিতে তার অসমাপ্ত পরিকল্পনা ও আরো কাজ করার আকাঙ্ক্ষাই এখন ফিরে আসছে বারবার।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৯/২০২৬