মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে সামান্য বেড়েছে। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি কমেনি তার দল রিপাবলিকান পার্টির। বরং জাতীয় পর্যায়ের ভোটের হিসাবে ডেমোক্রেটিক পার্টি রিপাবলিকানদের চেয়ে সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
গত সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্মেলনের পর চার দিন ধরে পরিচালিত রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। দেশজুড়ে ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত জরিপটির ভুলের মাত্রা ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্তমান কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগস্টের ২৮ থেকে ৩১ তারিখে পরিচালিত আগের জরিপে এ হার ছিল ৩৩ শতাংশ, যা ট্রাম্পের পুরো রাজনৈতিক জীবনে সর্বনিম্ন জনসমর্থনের রেকর্ড। নতুন জরিপে সামান্য উন্নতি হলেও তার জনপ্রিয়তা এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অর্থনৈতিক চাপ ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে জরিপে উঠে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয়ে চাপ বাড়ে। একই সময়ে অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের সুবিধাজনক অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন এখনই অনুষ্ঠিত হলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ৩৭ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান পার্টিকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুই দলের মধ্যে সাত শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর সর্বোচ্চ।
জাতীয় পর্যায়ের এই ভোটের হিসাব কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্রেটদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এর মাধ্যমে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা যায় না। কারণ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসন নির্ধারণে অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার পৃথক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।
তবে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
অর্থনৈতিক নীতিতেও ডেমোক্রেটরা দীর্ঘদিন পর সামান্য এগিয়ে গেছে। অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দলকে বেশি যোগ্য মনে করেন- এমন প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান পার্টির প্রতি আস্থা জানিয়েছেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনৈতিক ইস্যুতে ডেমোক্রেটরা রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলেছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ৫ হাজার ডলারের ‘লভ্যাংশ’ দেওয়ার প্রস্তাবও জনমনে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিনি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যে ডেমোক্রেটদের প্রায় ১০ জনের নয়জন এবং রিপাবলিকানদের প্রায় ১০ জনের চারজন প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। অর্থের উৎস হিসেবে শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব ব্যবহারের কথা বলা হলেও বর্তমান রাজস্ব দিয়ে পুরো অর্থের সংস্থান করা কঠিন। এ কারণে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও প্রস্তাবটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এদিকে রাজধানী ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিভক্তি দেখা গেছে। এর মধ্যে হোয়াইট হাউজে একটি বিশেষ বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জরিপে ৯১ শতাংশ ডেমোক্রেট এবং ২৫ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনি প্রকল্পগুলোকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনসমর্থনে সামান্য পুনরুদ্ধারের আভাস মিললেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিকে ঘিরে জনমতের পরিবর্তন নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৯/২০২৬