গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার একমাস

অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪২ এএম ২০২৬
অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক
ছবি

অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক

এক মাস-সময়ের হিসাবে সামান্য, কিন্তু রক্ত, ধ্বংস আর আর্তনাদের হিসাবে এক অনন্তকাল। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ প্রান্তর আজ কেবল একটি অঞ্চলের সংকট নয়; এটি বিশ্ববিবেকের কঠিনতম পরীক্ষা। প্রতিদিনের সূর্যোদয় সেখানে নতুন করে ধ্বংসের বার্তা আনে, আর প্রতিটি রাত্রি নামে শোকের ভার বয়ে। প্রশ্ন জাগে-এই নির্মমতা আর কতদিন?

সংঘাতের যে বহুমাত্রিক বিস্তার আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা নিছক সামরিক লড়াইয়ের গণ্ডি বহু আগেই অতিক্রম করেছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘর্ষের সঙ্গে যখন হুতি ও হিজবুল্লাহর সক্রিয় অংশগ্রহণ যুক্ত হয়, তখন যুদ্ধ আর সীমান্তে আটকে থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও মানবিকতার প্রতিটি স্তরে। লেবাননের সীমান্তে ট্যাংকের গর্জন, গাজার ধ্বংসস্তূপ, তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের আগুন-সব মিলিয়ে যেন সভ্যতার এক অন্ধকার প্রতিচ্ছবি।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় পরাজিত মানুষ। হাজারো প্রাণহানি-সংখ্যা দিয়ে যার গভীরতা মাপা যায় না। প্রতিটি নিহত শিশুর নিথর দেহ আমাদের সভ্যতার ব্যর্থতার প্রতীক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা-কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার-সব যেন কাগুজে শব্দে পরিণত হয়েছে। এই নীরব স্বীকৃতি কি আমরা দিতে পারি?

কিন্তু এই আগুন কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক বাণিজ্য আজ অনিশ্চয়তার কিনারায়। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, তেলের প্রবাহ থেমে গেলে, তার অভিঘাত গিয়ে লাগে প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে, প্রতিটি পরিবারের জীবনে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি-যুদ্ধের ছায়া এখন বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ কারও একার নয়; এর মূল্য দিচ্ছে সমগ্র বিশ্ব।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, এই সংকটময় মুহূর্তেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। বিবৃতি, উদ্বেগ, আহ্বান-এসবের সীমা বহু আগেই অতিক্রান্ত। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, দৃঢ় কূটনীতি এবং নিরপেক্ষ অবস্থান। জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সামনে আজ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব-তারা কি মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নীরবতার আড়ালে ইতিহাসের দায় এড়িয়ে যাবে?

ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে-যুদ্ধের কোনো বিজয় নেই, আছে কেবল ক্ষতচিহ্নের বিস্তার। প্রতিশোধের আগুন কখনো শান্তি আনে না; বরং তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। তাই আজকের এই ক্রান্তিকালে একমাত্র পথ সংলাপ, একমাত্র সমাধান সমঝোতা।

আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন-আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। এই আহ্বান দুর্বলতার নয়, এটি মানবতার শক্তির ঘোষণা। এখনই সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে মানবিকতার কণ্ঠস্বর শোনার। এখনই সময় অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে উঠে আসা সেই আর্তনাদকে গুরুত্ব দেওয়ার।
কারণ, যদি আজ আমরা নীরব থাকি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
সানা/আপ্র/৩০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক রাজনৈতিক পাঠশালার নাম তোফায়েল আহমেদ
০৩ জুন ২০২৬

প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক রাজনৈতিক পাঠশালার নাম তোফায়েল আহমেদ

তোফায়েল আহমেদের প্রস্থান শুধু একজন প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যু নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক...

মবের পুনরুত্থান: কোথায় রাষ্ট্রের শূন্য সহনশীলতা?
০২ জুন ২০২৬

মবের পুনরুত্থান: কোথায় রাষ্ট্রের শূন্য সহনশীলতা?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে বিচার হয় আদালতে, শাস্তি দেয় রাষ্ট্র, আর নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব ব...

পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানি, আনুষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার
২৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানি, আনুষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে এক নৈতিক অঙ্গীকার

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জীবনে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, আনুগত্য,...

শিশুর নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্রকে হতে হবে আপসহীন
২৫ মে ২০২৬

শিশুর নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্রকে হতে হবে আপসহীন

একটি সভ্য রাষ্ট্রের মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নাগরিকদের নিরাপত্তা দিয়ে। সেই বিব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে