গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার একমাস

অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৫৭ এএম ২০২৬
অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক
ছবি

অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে শান্তির ডাক

এক মাস-সময়ের হিসাবে সামান্য, কিন্তু রক্ত, ধ্বংস আর আর্তনাদের হিসাবে এক অনন্তকাল। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ প্রান্তর আজ কেবল একটি অঞ্চলের সংকট নয়; এটি বিশ্ববিবেকের কঠিনতম পরীক্ষা। প্রতিদিনের সূর্যোদয় সেখানে নতুন করে ধ্বংসের বার্তা আনে, আর প্রতিটি রাত্রি নামে শোকের ভার বয়ে। প্রশ্ন জাগে-এই নির্মমতা আর কতদিন?

সংঘাতের যে বহুমাত্রিক বিস্তার আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা নিছক সামরিক লড়াইয়ের গণ্ডি বহু আগেই অতিক্রম করেছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘর্ষের সঙ্গে যখন হুতি ও হিজবুল্লাহর সক্রিয় অংশগ্রহণ যুক্ত হয়, তখন যুদ্ধ আর সীমান্তে আটকে থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও মানবিকতার প্রতিটি স্তরে। লেবাননের সীমান্তে ট্যাংকের গর্জন, গাজার ধ্বংসস্তূপ, তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের আগুন-সব মিলিয়ে যেন সভ্যতার এক অন্ধকার প্রতিচ্ছবি।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় পরাজিত মানুষ। হাজারো প্রাণহানি-সংখ্যা দিয়ে যার গভীরতা মাপা যায় না। প্রতিটি নিহত শিশুর নিথর দেহ আমাদের সভ্যতার ব্যর্থতার প্রতীক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা-কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার-সব যেন কাগুজে শব্দে পরিণত হয়েছে। এই নীরব স্বীকৃতি কি আমরা দিতে পারি?

কিন্তু এই আগুন কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক বাণিজ্য আজ অনিশ্চয়তার কিনারায়। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, তেলের প্রবাহ থেমে গেলে, তার অভিঘাত গিয়ে লাগে প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে, প্রতিটি পরিবারের জীবনে। জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি-যুদ্ধের ছায়া এখন বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। অর্থাৎ, এই যুদ্ধ কারও একার নয়; এর মূল্য দিচ্ছে সমগ্র বিশ্ব।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, এই সংকটময় মুহূর্তেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। বিবৃতি, উদ্বেগ, আহ্বান-এসবের সীমা বহু আগেই অতিক্রান্ত। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, দৃঢ় কূটনীতি এবং নিরপেক্ষ অবস্থান। জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সামনে আজ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব-তারা কি মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নীরবতার আড়ালে ইতিহাসের দায় এড়িয়ে যাবে?

ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে-যুদ্ধের কোনো বিজয় নেই, আছে কেবল ক্ষতচিহ্নের বিস্তার। প্রতিশোধের আগুন কখনো শান্তি আনে না; বরং তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। তাই আজকের এই ক্রান্তিকালে একমাত্র পথ সংলাপ, একমাত্র সমাধান সমঝোতা।

আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন-আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। এই আহ্বান দুর্বলতার নয়, এটি মানবতার শক্তির ঘোষণা। এখনই সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে মানবিকতার কণ্ঠস্বর শোনার। এখনই সময় অগ্নিগর্ভ প্রান্তর থেকে উঠে আসা সেই আর্তনাদকে গুরুত্ব দেওয়ার।
কারণ, যদি আজ আমরা নীরব থাকি, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
সানা/আপ্র/৩০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চট্টগ্রামের পানিতে জীবাণু, জরুরি নজরদারি প্রয়োজন
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের পানিতে জীবাণু, জরুরি নজরদারি প্রয়োজন

পানি জীবনের অপরিহার্য উপাদান। সেই পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মানে জনস্বাস্থ্যের মৌলিক নিরাপত্তা...

জননিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জননিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা

রাষ্ট্রের সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব কী? নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ আজ সেই মৌলিক ন...

‘বাংলার টেসলা’ বন্ধ নয়, চাই সুশৃঙ্খল রূপান্তর
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বাংলার টেসলা’ বন্ধ নয়, চাই সুশৃঙ্খল রূপান্তর

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ বিস্তার এখন আর নিছক পরিবহন-সমস্যা নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনার গ...

ছিনতাইয়ের হ্যাঁচকায় বিপন্ন রাজধানীর নাগরিক জীবন, জননিরাপত্তার দায় কার?
৩১ আগস্ট ২০২৬

ছিনতাইয়ের হ্যাঁচকায় বিপন্ন রাজধানীর নাগরিক জীবন, জননিরাপত্তার দায় কার?

রাজধানীর রাস্তায় এখন ছিনতাই কেবল মানুষের অর্থ-সম্পদ কেড়ে নেওয়ার অপরাধ নয়; এটি নাগরিকের জীবন ও রাষ্ট্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে