গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মেনু

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজারে ডিমের দাম চড়েছে, মুরগির পড়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৫:০৫ এএম ২০২৬
অস্থির নিত্যপণ্যের বাজারে ডিমের দাম চড়েছে, মুরগির পড়েছে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে একযোগে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে কিছু সবজি ও মুরগির দাম সামান্য কমলেও অন্যদিকে ডিম, পেঁয়াজ, চাল, মাছসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়চাপ আরো বেড়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের ডিমের ডজনপ্রতি দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। কোথাও কোথাও খুচরা পর্যায়ে প্রতি হালির দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ফলে ডজনপ্রতি দাম দেড়শ টাকায়ও পৌঁছাচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মাঝারি মানের চাল (বিআর-২৮ ও পায়জাম) কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু ও মোটা চালেও কোথাও কোথাও ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন ও বোরো ধান বাজারে থাকলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে।

সবজির বাজারে তুলনামূলকভাবে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। করলা, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, বরবটি, শিমসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু সবজি এখনো ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় পুরো বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

মাছের বাজারে আবার দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। পাঙ্গাস, রুই, তেলাপিয়া, পাবদা, শিংসহ বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় এবং চিংড়ি ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগি ও লেয়ার মুরগির দাম এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।

অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকার আশপাশে এবং খাসির মাংস ১১০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা ও ভোক্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত হাতবদলের কারণে পণ্যের দামে চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যে সাময়িক স্বস্তি থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সংসার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৬/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই
১৩ জুন ২০২৬

বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ‌‘বড় হলেও বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে ব্যবসায়...

কালো টাকা সাদা নয় বলে দাবি এনবিআরের
১২ জুন ২০২৬

কালো টাকা সাদা নয় বলে দাবি এনবিআরের

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে-এমন সমালোচনার জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান...

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি
১২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের বড় সুযোগ: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পু...

নতুন বাজেটে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা: মির্জা ফখরুল
১২ জুন ২০২৬

নতুন বাজেটে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা: মির্জা ফখরুল

নতুন বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই