রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে অধিকাংশ সবজির দাম প্রকারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কোনো কোনো সবজির দাম কমেছে এর চেয়েও বেশি। তবে দাম কমলেও সবজি এখনো পুরোপুরি ক্রেতাদের নাগালে আসেনি। টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচ ও কয়েক ধরনের সবজির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং গত সপ্তাহের বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারে নতুন করে শিম, মুলা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির সরবরাহ বাড়ছে। পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজির পরিমাণ বাড়ায় বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা দামে।
গত কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতিও সবজির দাম নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা তুলে ধরছে। ২৫ অক্টোবরের এক বাজার প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিম বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। ৩০ অক্টোবরের বাজারে নতুন শিমের দাম বাজারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় নেমেছে। একই সময়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহও বেড়েছে।
গত সপ্তাহে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া নতুন আলু এ সপ্তাহে ১৪০ টাকায় পাওয়া গেছে। টমেটোর দামও কমেছে। গত সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো এ সপ্তাহে বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমেছে। বেগুন ও কাঁকরোলের দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমেছে বলে বাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সব বাজারে সবজির দাম একই হারে কমেনি। কোথাও শিম, মুলা ও ফুলকপির দাম তুলনামূলক কম, আবার কোথাও বেগুন, টমেটো ও গাজরের দাম এখনো বেশি। শুক্রবারের বাজারদরেও এই পার্থক্য দেখা গেছে। কোনো বাজারে দেশি টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, আবার মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে তা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পণ্যের মান, আকার, সরবরাহ ও বাজারভেদে দামের এই ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ১২০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁকরোল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১২০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে।
সবজির দাম কমার পেছনে সরবরাহ বৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ বাড়ছে। ফলে আগের তুলনায় কিছু সবজি কম দামে কেনা যাচ্ছে। তবে পরিবহন খরচ, পাইকারি বাজারের দর এবং পণ্যের মানের কারণে খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য থাকছে।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ আরো বাড়লে দাম কমার সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেশি থাকলে সেই হারে দাম কমানো কঠিন হবে। গত বৃহস্পতিবারের একটি বাজার প্রতিবেদনে বিক্রেতারাও পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি দামের কারণে সবজির খুচরা মূল্য বেশি থাকার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, মাছ-মাংসের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে ডিমের বাজারে উল্টো প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় নেমে এলেও এখন তা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং কাতল ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা, শিং ও টেংরা মাছের দাম আকার ও মানভেদে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। বড় আকারের চিংড়ি, আইড় ও ইলিশের দাম আরো বেশি।
সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে সবজির দাম কমার এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি বাজারের দামের ওপর। অন্যদিকে মাছ, ডিম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্য এখনো সাধারণ ক্রেতার সংসার খরচের চাপ কমতে দিচ্ছে না।
সানা/আপ্র/৩০/১০/২০২৬