নগরবাসীর নাগরিক সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চালু করা ডিজিটাল সেবা অ্যাপ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ চালুর প্রথম সপ্তাহেই সাড়া ফেলেছে। অ্যাপটির মাধ্যমে এক সপ্তাহে ৯৯৯টি অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৫৮টি অভিযোগের সমাধান করেছে সিটি করপোরেশন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী অ্যাপের লাইভ ড্যাশবোর্ডে দেখা গেছে, উদ্বোধনের পর প্রথম সাত দিনে জমা হওয়া অভিযোগগুলোর প্রায় ২৬ শতাংশ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৭৪১টি অভিযোগও পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নগরবাসীর কাছে অ্যাপটি কতটা কার্যকর হয়ে উঠছে, এর একটি উদাহরণ মোহাম্মদ সেলিমের ঘটনা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সেলিমের বাড়ির সামনের সড়কে ভবন নির্মাণের জন্য পাথর ও বালু ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাকে। পরে তিনি ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ জানালে সিটি করপোরেশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সড়ক থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়।
এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেলিম। তিনি জানান, সড়কের আবর্জনা, ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে তার আরো তিনটি অভিযোগের সমাধান এখনো হয়নি। তবে অ্যাপটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এসব সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই অ্যাপের অর্থায়ন করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেনটো টেক।
‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে নগরবাসী রাস্তাঘাট, মশার উপদ্রব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, নালা-নর্দমা, পাবলিক টয়লেট, অবৈধ স্থাপনা, জলাবদ্ধতাসহ মোট ১০টি বিষয়ে ছবি সংযুক্ত করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারছেন। এ ছাড়া অ্যাপটিতে যুক্ত করা হয়েছে জরুরি সেবা, নারী ও শিশু সেবা, স্কুল হেলথ কার্ড এবং বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রের আবেদন সুবিধা।
গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ানস্টপ নাগরিক সেবা মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর মেয়র বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপটির প্রতি নাগরিকদের যে সাড়া পাওয়া গেছে, তা প্রমাণ করে প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ। নাগরিকদের যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে সমাধান করা এবং ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি জানার সুযোগ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, এটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন।’ স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা এবং মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, এই অ্যাপ শুধু অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে উন্নয়ন-সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণ, জনমত বিশ্লেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ চট্টগ্রামকে আধুনিক, স্মার্ট ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৫/৭/২০২৬