খুলনায় আবারও মিলল এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ। মহানগরীর পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা আশিক সড়ক এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে রজন হাওলাদার (৪০) নামে এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত রজন হাওলাদার খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার রাজু হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলতলা আশিক সড়ক এলাকার এক গৃহবধূর কয়েকটি হাঁস হারিয়ে গেলে তিনি সেগুলো খুঁজতে বের হন। খোঁজার একপর্যায়ে একটি পরিত্যক্ত টিনের বেড়ার ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে তিনি সেখানে উঁকি দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে কালো রঙের হাফ হাতা গেঞ্জি ও কালো জিন্সের প্যান্ট ছিল। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করে। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি রজন হাওলাদারের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, রজন গত তিন থেকে চার দিন আগে ইজিবাইক ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় তার পরিবার খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
এদিকে হরিণটানা থানা পুলিশ রজনের ভাড়ায় চালিত ইজিবাইকটি উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। খুলনা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইকবাল হাসান তুহিন বলেন, “খুলনা যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন—আর কত প্রাণহানি হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে? আমরা সংঘাতমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ খুলনা প্রত্যাশা করি।”
সানা/আপ্র/২৩/৭/২০২৬