যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাগেরহাটে বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বাগেরহাট শহরের ধানসিঁড়ি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. আবু রাসেল।
বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।
সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা আসমা আরা বিথী, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক মইনুল ইসলাম, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক হায়াৎ মাহমুদ খান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষক মো. রাসেল হোসেনসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সদস্য এবং সাইবার হয়রানির শিকার নারী-পুরুষসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।
সভায় বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনায় জানানো হয়, ফেসবুক, ইমোসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে কটূক্তি, ট্রল, গুজব ছড়ানো, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, হুমকি-ভয়ভীতি, ভুয়া পরিচয়ে পরিচিতি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনের মাধ্যমে অনেক মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের অল্প বয়সে মোবাইল ফোনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে কেউই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সাইবার অপরাধ, অনলাইন হয়রানি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা করা সম্ভব।
সানা/আপ্র/২১/৭/২০২৬