খুলনার বটিয়াঘাটা-রায়পুর সড়কের বটিয়াঘাটা থেকে মাইলমারা বাজার পর্যন্ত অংশে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সড়ক উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার এক মাসও পেরোয়নি, এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে খোয়া ও বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গর্তও। এতে উন্নয়নকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বটিয়াঘাটা-রায়পুর সড়কের বটিয়াঘাটা থেকে মাইলমারা বাজার পর্যন্ত অংশটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সড়কটির কার্পেটিং উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। সম্প্রতি কাজ শেষ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া ও বিটুমিন উঠে যেতে শুরু করে।
তাদের দাবি, কাজ চলাকালে নির্মাণসামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকলেও প্রকল্পস্থলে কোনো সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের পরিধি কিংবা মেয়াদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কোনো তথ্য জানতে পারেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজ চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শুভ্রদেব ঢালী বলেন, বটিয়াঘাটা গ্রামের শুরু থেকে মাইলমারা বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক বছর পর নতুন করে পিচঢালা সড়ক নির্মাণ করা হলেও এক মাস না যেতেই সড়ক থেকে খোয়া উঠে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পস্থলে কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় বরাদ্দের পরিমাণ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা কাজের বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
হেতালবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নৃপেনন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সড়ক নির্মাণকাজের গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাইলমারা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কিংককর রায় বলেন, নির্মাণকাজে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের খোয়া উঠে গেছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২১/৭/২০২৬