জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিলে ‘ঈমান নষ্ট’ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদেরকে ভোট দিলে আমরা তো আমাদের ঈমানকে নষ্ট করে ফেলব।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি এলাকায় নির্বাচনি সভায় একথা বলেন তিনি।
জামায়াতের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে ভোটরদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য, আমাদের একাত্তরের স্বাধীনতাকে ধারণ করার জন্য, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করার জন্য আসুন আমরা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে দেশের উন্নয়ন করি। দেশে শান্তিতে নিয়ে আসি এবং শান্তির বাংলাদেশ গড়ি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত বলতে শুরু করেছে- দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি ‘বেহেশতে যাওয়া যাবে’! নাউজুবিল্লাহ বলতে হয় তাই না? এটা কি ঠিক, একটা মার্কাকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায়?
সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানে মুসলমানদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
হেফাজত আমিরের বক্তব্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “হেফাজতে ইসলামের আমির সাহেব জামায়াতের এসব কথার ওপরে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামকে ভোট দেওয়া না জায়েজ। আর জামায়াতের সঙ্গে ছিল চরমোনাই পীর সাহেব, উনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মিথ্যাবাদী’।
কৃষকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার ঠাকুরগাঁও এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- কৃষি ছাড়া আয়ের আর কোনো উৎস নেই। এই কৃষিটা যাতে কৃষকেরা ঠিকমতো করতে পারেন, সেজন্য আমরা সার ও পানির ব্যবস্থা করব।
ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে সবার আগে আমি মা-বোনদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমি আমার সনাতনী ভাই-বোনদের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি এলাকায় নতুন নতুন কলকারখানা করা হবে। এ ছাড়াও বেকার সমস্যা দূর করা হবে।
এ সময় বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসি/আপ্র/০৯/০২/২০২৬